dannews24.com | logo

৩রা জ্যৈষ্ঠ, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ | ১৭ই মে, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ

এমন মৃত্যু আর কারো যেন না হয়

প্রকাশিত : অক্টোবর ০৫, ২০২০, ১৩:৪৫

এমন মৃত্যু আর কারো যেন না হয়

সুরজিত সরকার সজল।সারিয়াকান্দি উপজেলার কামালপুর ইউনিয়ন যুবলীগের সহ-সভাপতি।অত্যন্ত ভদ্র এবং শান্ত প্রকৃতির যুবক। এলাকায় গেলে দেখা হলে যথেষ্ট সম্মান ও আপ্যায়ন করতেন। কাকার পরিচিত হওয়ায় আমাকেও কাকা ডাকতেন।এখন চোখের সামনে ভাসছে তরতাজা ছেলেটির চেহারা। শহরের গালাপট্টিতে তার কাকা রনজিৎ দার ঔষধের দোকানে মাঝে মধ্যে দেখা হতো আমার সাথে।সম্প্রতি জীবিকার তাগিদে থাকতেন ঢাকায়। বিয়ে করেছেন দুই মাস আগে। করোনা উপসর্গ দেখা দিলে কয়েকদিন আগে বগুড়ায় আসেন। সব ধরনের উপসর্গ থাকার পরেও নমুনা পরিক্ষায় ফলাফল নেগেটিভ আসে। এরই মধ্যে শ্বাস কষ্ট দেখা দিলে শহরের একটি ক্লিনিকে ভর্তি করানো হয়। গত শুক্রবারে দুপুরে আমার পরামর্শে ভর্তি করানো হয় বগুড়া মোহাম্মদ আলী হাসপাতালে। পরদিন আমি ঢাকায় অবস্থান কালে রোগী অনেক সুস্থ হয়ে ওঠার সংবাদ পাই।সেদিন আবারো নমুনা পরিক্ষায় পাঠানো হয়।আমার অনুরোধে মোহাম্মদ আলী হাসপাতালের আর এমও ডাঃ শফিক আমিন কাজল রোগীকে কেবিনে স্থানাস্তরের ব্যবস্থা করেন। রোগীর কাকার মাধ্যমে খবর পাচ্ছি রোগীর অবস্থা আগের চেয়ে অনেক ভাল। অপেক্ষা শুধু করোনা নিশ্চিত হওয়ার জন্য ২য় দফা নমুনার পরিক্ষার ফলাফল। রবিবার দুপুরে রোগীর কাকা ফোন করে বলেন,দাদা আমার ভাতিজার খবর নেন।তার অবস্থা ভাল না। আমি খবর নেয়ার আগেই ডাঃ কাজল আমাকে ফোন করে বলেন, দাদা আপনার রোগীকে বাঁচাতে পারলাম না।এই খবর পেয়ে মোহাম্মদ আলী হাসপাতালে গিয়ে দেখি রোগী
মারা গেছে জেনেও স্বজনদের আহাজারিতে চিকিৎসক এবং নার্স অক্সিজেন দিয়ে শেষ চেষ্টা করছেন।কিছুক্ষনের মধ্যে তাদের সব চেষ্টাই ব্যর্থ হয়ে যায়।
হাসপাতালের কেবিনে চলছে আহাজারি আর বাহিরে তার কাকা ও আমি মরদেহ সৎকারের বিষয়ে আলোচনা করছি।আত্মিয় স্বজনের সাথে যোগাযোগ করে তেমন কোন সাড়া মিলছে না।গ্রামের আত্মিয়দের পরামর্শ শহরে দাহ করার, আর শহরের আত্মিয়দের পরামর্শ গ্রামে নিয়ে যাওয়ার। এমন অবস্থায় হাসপাতালে বাবা-কাকা ছাড়া পুরুষ মানুষ তেমন কাউকে দেখলাম না। করোনা উপসর্গে মারা যাওয়ার কারনে মরদেহ গ্রামে নিয়ে গিয়ে বিপাকে পড়তে পারেন এই আশংকা তাদের মধ্যে।আবার শহরেই বা কে করবে হিন্দু সম্প্রদায়ের মরদেহ সৎকার। এনিয়ে তারা যখন হতাশ তখন যোগাযোগ শুরু করলাম বিভিন্ন স্বেচ্ছাসেবীদের সাথে।যারা করোনা মহামারীর শুরু থেকে মরদেহ সৎকার করে আসছেন । একপর্যায় পাওয়া গেল স্বেচ্ছাসেবী চেলোপাড়ার তপুদা।পরিচয় দিয়ে ফোন করতেই রাজী হয়ে গেলেন।আগ্রহ সহকারে বললেন দাদা আমি টীম রেডি করি,আপনি আমাদেরকে সুরক্ষা পোশাক ব্যবস্থা করে দেন। করোনা উপসর্গে মারা যাওয়ায় তাদের প্রয়োজন সুরক্ষা পোশাক। আবারো সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দিলেন ডাঃশফিক আমিন কাজল। সন্ধ্যায় স্বেচ্ছাসেবীদের সহযোগিতায় মরদেহ নিয়ে যাওয়া হয় শহরের মালতিনগর মহাশ্মশানে। কিন্তু করতোয়া নদীর পানি বেড়ে গিয়ে শ্মশানে শুকনো স্থান নেই মরদেহ ও সামগ্রী রাখার জন্য। সেখান থেকে আবারো মরদেহ নিয়ে যাওয়া হয় ৬-৭ কিলো মিটার দুরে ফুলবাড়ি মহাশ্মশানে।রাত ৯ টার পর মরদেহ সৎকার চলছে,এমন সময় ডাঃ কাজল ফোন করে বলেন, দাদা আপনার মারা যাওয়া রোগী করোনা নমুনা পরিক্ষার ফলাফল ২য় দফাও নেগেটিভ। হাসপাতালে ভর্তির পর চিকিৎসকের চেষ্টায় রোগী অনেকটা সুস্থ।মারা যাওয়ার এক ঘন্টা আগে বাড়ি থেকে আনা ভাত খেয়েছে। কিন্তু সময় ফুরিয়ে গেছে যমদুত হাজির। পরিবারের এক মাত্র ছেলে, সদ্য বিয়ে করা স্ত্রী ছাড়াও আত্মীয় স্বজনকে কাদিয়ে চলে যেতে হলো পরপারে।এটাই নিয়ম,এটাই বাস্তবতা।কিন্তু তার পরেও মানুষের মধ্যে অহংকার,লোভ ক্ষমতার দাপট কমছে না।
বিশেষ কৃতজ্ঞতাঃ ডাঃ শফিক আমিন কাজল ও স্বেচ্ছাসেবী তপু দা।সৃষ্টিকর্তা এই দুইজনকে দীর্ঘজীবি করুন।






অফিস: হোল্ডিং#৩৫৯,রোড# ৮/২ মধ‍্য সরদারপাড়া, দুপচাঁচিয়া, বগুড়া।

সম্পাদক ও প্রকাশক: মো: মোছাব্বর হাসান মুসা। 01711366298/01812550877 mushanews2011@gmail.com

নির্বাহী সম্পাদক
ইমরানুল হাসান (বি এ অনার্স) ম‍্যানেজমেন্ট।

 

বার্তা সম্পাদক: মো:জাকারিয়া হাসান। 01796032336

মহিলা সম্পাদিকা: মোনিকা আক্তার মালা। ( বিএ অর্নাস) রাষ্ট্রবিজ্ঞান।