dannews24.com | logo

৫ই বৈশাখ, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ | ১৮ই এপ্রিল, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ

ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন বাতিলের দাবি

প্রকাশিত : মার্চ ০৩, ২০২১, ২১:৫৮

ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন বাতিলের দাবি

আগামী ২৬ মার্চের মধ্যে ‘নিবর্তনমূলক’ ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন বাতিলের দাবি জানিয়েছে গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের প্রতিষ্ঠাতা ট্রাস্টি 

কারাগারে লেখক মুশতাক আহমেদের মৃত্যুর প্রতিবাদ এবং ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন বাতিলের দাবিতে বুধবার দুপুরে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় অভিমুখে পদযাত্রা কর্মসূচি থেকে দাবি জানানো হয়।

জাতীয় প্রেসক্লাব থেকে শুরু হওয়া নাগরিক সমাজের এই পদযাত্রা পুলিশের বাধায় হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালের সামনে আটকে যায়।

পরে সেখানে সংক্ষিপ্ত সমাবেশে জাফরুল্লাহ চৌধুরী ২৬ মার্চের মধ্যে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন বাতিলের জোর দাবি জানান।

তিনি বলেন, “আপনাকে বলছি, ২৬ মার্চের আগেই এই মানবতাবিরোধী কালো আইনটি বাতিল করুন।”

আর গণসংহতি আন্দোলনের প্রধান সমন্বয়কারী জোনায়েদ সাকি বলেন, আগামী ২৬ মার্চের মধ্যে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন বাতিল করা না হলে ‘কঠোর আন্দোলন’ গড়ে তোলা হবে।

ইন্টারকন্টিনেন্টালের সামনে সংক্ষিপ্ত সমাবেশে সরকারকে সময় বেঁধে দিয়ে ওই এলাকা ত্যাগ করেন বিক্ষোভকারীরা।

 

পদযাত্রা আটকে দেওয়ার বিষয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নে পুলিশের রমনা জোনের ডিসি সাজ্জাদুর রহমান বলেন, “প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ স্থান। রাষ্ট্রীয় গুরুত্বপূর্ণ স্থান হিসেবে সীমারেখা আছে। সেই সীমারেখা আমরা তাদেরকে অবগত করেছি। তাদেরকে বলেছি, আপনাদের প্রতিবাদ যতটুকু সম্ভব আমরা এলাও করেছি এবং এখানে এসে সমাপ্ত ঘোষণা করেন।

“এই কথাতেই তারা এখানে থেমে তাদের বক্তব্য দিয়ে কর্মসূচি শেষ করে চলে গেছেন। তারা প্রেসক্লাব থেকে হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টাল পর্যন্ত এসেছেন। প্রতিটি পয়েন্টে আমাদের পুলিশ থাকার পরও তাদের কোনো বাধা দেওয়া হয়নি।”

এর আগে জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে নাগরিক সমাবেশ করে হুইল চেয়ারে বসা জাফরুল্লাহ চৌধুরীর নেতৃত্বে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় অভিমুখে নাগরিক সমাজের পদযাত্রা শুরু হয়।

জাফরুল্লাহ চৌধুরীর পাশাপাশি নাগরিক ঐক্যের আহ্বায়ক মাহমুদুর রহমান মান্না, বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাইফুল হক, গণসংহতি আন্দোলনের প্রধান সমন্বয়কারী জোনায়েদ সাকি, অধ্যাপক রেহেনুমা আহমেদ, আলোকচিত্রী শহিদুল আলম, ডাকসুর সাবেক ভিপি নুরুল হক নুরসহ বিভিন্ন সামাজিক ও রাজনৈতিক সংগঠনের নেতাকর্মীরা এ পদযাত্রায় অংশ নেন।

হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালের সামনে তাদের পদযাত্রা পুলিশের ব্যারিকেডের মুখে পড়ে। তারপর সেখানেই অবস্থান নিয়ে তারা বিক্ষোভ শুরু করেন।

প্রেসক্লাবের সামনে সমাবেশ সভাপতির বক্তব্যে ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী বলেন, “আজকে আমাদের দাবি একটাই, এই ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন বাতিল করে দিতে হবে। এটা সংস্কারের প্রয়োজন নাই, আমরা সংস্কার চাই না, আমরা এটা বাতিল চাই।”

এ আইনের অধীনে গ্রেপ্তার সবাইকে অবিলম্বে মুক্তি দেওয়ারও দাবি জানান গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের প্রতিষ্ঠাতা ট্রাস্টি।

 

সমাবেশে জানানো হয়, ড. কামাল হোসেন অসুস্থতার কারণে নাগরিক সমাবেশে উপস্থিত থাকতে না পারলেও দাবির প্রতি সংহতি জানিয়ে লিখিত বক্তব্য পাঠিয়েছেন। সেই বক্তব্যে পড়ে শোনান তার দল গণফোরামের আহবায়ক কমিটির সদস্য মোশতাক আহমেদ।

সেখানে বলা হয়, “ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের অপব্যবহারের মাধ্যমে মুক্ত চিন্তা, বাক স্বাধীনতা ও সংবাদপত্রের স্বাধীনতা চরমভাবে খর্ব করা হয়েছে। মানবাধিকার ও নাগরিক সমাজের পক্ষ থেকে এই আইনের নিবর্তনমূলক ধারাগুলো সংশোধনের জন্য বার বার অনুরোধ করার পরও সরকার এ বিষয়ে কোনো পদক্ষেপ গ্রহণ করেনি। বরং এর অপব্যবহার বহুগুণে বাড়িয়ে দিয়েছে।”

“এভাবে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনকে সরকারের অত্যাচার ও নির্যাতনের হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করে সাংবাদিক ও নাগরিক সমাজের মত প্রকাশের স্বাধীনতাকে খর্ব করা হচ্ছে। এই কালো আইনটির অপব্যবহারের চরম বহিঃপ্রকাশ হচ্ছে লেখক মুশতাক আহমেদের কারা হেফাজতে মৃত্যু।”

একটি স্বাধীন কমিশনের মাধ্যমে কারাগারে লেখক মুশতাক আহমেদর মৃত্যুর ঘটনা তদন্ত করার দাবি জানান প্রবীণ আইনজীবী কামাল হোসেন।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রবীণ শিক্ষক অধ্যাপক সিরাজুল ইসলাম চৌধুরীও এই নাগরিক সমাবেশে সংহতি প্রকাশ করে একটি লিখিত বক্তব্য পাঠান।

সেখানে বলা হয়, “ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে ইচ্ছা মত মামলা দেওয়া হচ্ছে, মানুষ গ্রেপ্তার হচ্ছেন, নাজেহাল হচ্ছেন। সাংবাদিক শফিকুল ইসলাম কাজল তো গুমই হয়ে গিয়েছিলেন। সীমান্ত এলাকায় যখন তাকে দেখা গেল, তখন অসুস্থ মানুষটিকে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে গ্রেপ্তার দেখানো হল। জামিনের চেষ্টা হল, কাজ হল না।

“শেষে দেশ-বিদেশের বিভিন্ন মহল থেকে যখন প্রতিবাদ হল, লেখালেখি হল, তখন কোনো মতে জামিন পেলেন। মুশতাক আহমেদ তো তাও পেলেন না। ছয় ছয় বার আবেদন করেছেন, গ্রাহ্য হল না, সপ্তমবার আর প্রয়োজন হল না। তিনি চিরমুক্ত হয়ে চলে গেলেন।”






অফিস: হোল্ডিং#৩৫৯,রোড# ৮/২ মধ‍্য সরদারপাড়া, দুপচাঁচিয়া, বগুড়া।

সম্পাদক ও প্রকাশক: মো: মোছাব্বর হাসান মুসা। 01711366298/01812550877 mushanews2011@gmail.com

নির্বাহী সম্পাদক
ইমরানুল হাসান (বি এ অনার্স) ম‍্যানেজমেন্ট।

 

বার্তা সম্পাদক: মো:জাকারিয়া হাসান। 01796032336

মহিলা সম্পাদিকা: মোনিকা আক্তার মালা। ( বিএ অর্নাস) রাষ্ট্রবিজ্ঞান।