dannews24.com | logo

৩রা জ্যৈষ্ঠ, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ | ১৭ই মে, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ

নান্দাইলে ধর্ষণ-মামলা তদন্তে মীমাংসার চেষ্টা করায় সাময়িক বরখাস্ত এসআই

প্রকাশিত : ফেব্রুয়ারি ১৯, ২০২১, ১৫:০৭

নান্দাইলে ধর্ষণ-মামলা তদন্তে মীমাংসার চেষ্টা করায় সাময়িক বরখাস্ত এসআই

 

তাপস কর,ময়মনসিংহ প্রতিনিধি।নান্দাইলে ধর্ষণ মামলার-মীমাংসার চেষ্টা করায় সাময়িক বরখাস্ত হল পুলিশের এক এসআই। ধর্ষন মামলা নিয়ে এক কিশোরীর পরিবারকে সালিশে মীমাংসা করার পরামর্শ দেওয়ার কারণে মামলাটির তদন্ত কর্মকর্তাকে সাময়িক বরাখাস্ত করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার রাতে এ সংক্রান্ত একটি অফিস আদেশ আসে থানায়। ঘটনাটি ঘটেছে ময়মনসিংহের নান্দাইল থানায়। এসআই’র নাম মো. মনিরুল ইসলাম।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, উপজেলার গাঙাইল ইউনিয়নের সুরাশ্রম গ্রামের দিনমজুরের কিশোরী কন্যা স্থানীয় একটি মাদরাসায় নবম শ্রেণিতে পড়ে। মাদরাসায় ও প্রাইভেটে যাওয়া আসার পথে প্রায়ই কিশোরীকে উত্যক্ত করতো এলাকার এক ইজিবাইক চালক। আবু ছাঈদের ছেলে মনির মিয়া (১৯) এই কাজ করতো। ঘটনাটি নিয়ে বিচার চাইলেও কোনো ধরনের বিচার পায়নি কিশোরীর পরিবার। এ অবস্থায় গত ১০ ফেব্রুয়ারি রাত সাড়ে নয়টার দিকে কিশোরী তার বাবাকে পাশের বাড়ি থেকে ডেকে আনতে গেলে মনির তার পথরোধ করে।
ধর্ষণের শিকার কিশোরী জানায়, এ সময় মনির তাকে বিয়ের কথা বলে ধর্ষণ করে। কিশোরী চলে যেতে চাইলে তাকে ঝাপটে ধরে মনির। পরে কিশোরীর চিৎকারে লোকজন ছুটে এলে দৌড়ে পালিয়ে যায়। পরদিন এলাকায় বিচার চাইলে স্থানীয় সালিশকারীরা সালিশে বসে ধর্ষকের সাথে ধর্ষণের শিকার কিশোরীর বিয়ে সিদ্ধান্ত ছাড়াও আইনি পদক্ষেপ না নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়। কিন্তু সালিশের সিদ্ধান্ত কার্যকরী না হওয়ায় ছয়দিন পর কিশোরীর বাবা বাদী হয়ে এব‍্যাপারে নান্দাইল থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন।
অভিযোগের তদন্তের দায়িত্ব পান নান্দাইল থানার উপ-পরিদর্শক মনিরুল ইসলাম। তিনি বুধবার ঘটনাস্থলে গিয়ে কিশোরীর কথা ছাড়াও স্থানীয় লোকজনের বক্তব্য শোনেন। কিশোরীর বাবা জানান, তদন্ত শেষে তদন্তকর্মকর্তা মনিরুল ইসলাম তাঁকে বলেন ঘটনার শতভাগ সত্যতা পাওয়া যায়নি। এ অবস্থায় মামলা হলে ধর্ষণের কোনো ধরনের আলামত পাওয়া যাবে না। যে কারণে ঘটনাটি মীমাংসা করার জন্য পরামর্শ দেন। এ নিয়ে নান্দাইলে ধর্ষণের অভিযোগ তদন্ত করতে গিয়ে মীমাংসার চেষ্টা শিরোনামে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে সংবাদ প্রকাশ হলে দৃষ্টি গোচর হয় ময়মনসিংহ পুলিশ সুপারের। পরে রাতেই মামলাটি এফআইআর ভুক্ত হলে বৃহস্পতিবার ধর্ষণের শিকার কিশোরীকে ডাক্তারি পরক্ষিার জন্য হাসপাতালে ও জবানবন্দির জন্য আদালতে পাঠানো হয়।
এর মধ্যে পুলিশ সুপার মোহা. আহমার উজ্জামান স্বাক্ষরিত এক আদেশে আসে নান্দাইল থানায়। যাতে লেখা আছে, ধর্ষণের মতো ঘটনার বিষয়ে কোনো আইনি সহায়তা না দিয়ে উল্টো ধর্ষণের শিকার কিশোরীর পরিবারকে মীমাংসার বুদ্ধি দেওয়ায় ও বিবাদীদের পক্ষ নিয়ে দায়িত্ব ও কর্তব্য পালনে চরম অবহেলা, অদক্ষতা গুরুতর অপরাধ তথা বিভাগীয় শৃঙ্খলার পরিপন্থীর সামিল। যা শাস্তিযোগ্য অপরাধ। এ অবস্থায় উপ-পরিদর্শক মনিরুল ইসলামকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়। বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রকাশ হলে জনমনে আলোচনার ব‍্যাপক-ঝড়-তুলে।






অফিস: হোল্ডিং#৩৫৯,রোড# ৮/২ মধ‍্য সরদারপাড়া, দুপচাঁচিয়া, বগুড়া।

সম্পাদক ও প্রকাশক: মো: মোছাব্বর হাসান মুসা। 01711366298/01812550877 mushanews2011@gmail.com

নির্বাহী সম্পাদক
ইমরানুল হাসান (বি এ অনার্স) ম‍্যানেজমেন্ট।

 

বার্তা সম্পাদক: মো:জাকারিয়া হাসান। 01796032336

মহিলা সম্পাদিকা: মোনিকা আক্তার মালা। ( বিএ অর্নাস) রাষ্ট্রবিজ্ঞান।