dannews24.com | logo

৩০শে বৈশাখ, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ | ১৩ই মে, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ

বগুড়ার শেরপুর পৌর আবাসিক এলাকায় করাতকল প্রতিকার চেয়ে ইউএনও’র নিকট আবেদন

প্রকাশিত : অক্টোবর ১৩, ২০২০, ১৩:৫৭

বগুড়ার শেরপুর পৌর আবাসিক এলাকায় করাতকল প্রতিকার চেয়ে ইউএনও’র নিকট আবেদন

শেরপুর (বগুড়া) প্রতিনিধি: বগুড়ার শেরপুরে সরকারি নিয়মনীতির তোয়াক্কা না করেই আবাসিক এলাকায় গড়ে উঠছে করাতকল (সমিল)। ফলে নষ্ট হচ্ছে পরিবেশের ভারসাম্য। এছাড়া ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করতে হচ্ছে পথচারী ও শিক্ষার্থীদের।এ ছাড়া সেখানে খড়ি ও গাছের গুল স্তুপ করে রাখার কারণে সমিলটি সাপের আঁখড়ায় পরিণত হয়েছে। এলাকার বাসিন্দাদের মাঝে বিরাজ করছে সাপ আতংক। তাই লাইসেন্সবিহীন এই করাতকলটি বন্ধের দাবি জানিয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার নিকট লিখিত আবেদন জানিয়েছেন এলাকাবাসী।
এতে বলা হয়েছে, পৌরসভার দুই নম্বর ওয়ার্ডের পশ্চিম দত্তপাড়ার মৃত আব্দুল মতিনের ছেলে মো. জহির উদ্দীন শাহীন স্থানীয় দত্তপাড়া আবাসিক এলাকায় করাতকল স্থাপনের কাজ শুরু করেছেন। সড়ক ও বাসা-বাড়ির ভবন ঘেঁষে ওই করাতকলের ফাঁকা জায়গায় কাটা গাছের ডাল-পালার স্তুপ করে রাখা হয়েছে। মিলের মেশিন বসানোর কাজও চলছে বেশ জোরেশোরেই। আবাসিক এলাকায় সমিলটি চালু হলে ছেলে-মেয়েদের লেখাপড়া বিঘিœত হবে। এ অবস্থায় উদ্বিগ্ন ও দুশ্চিন্তার মধ্যে রয়েছেন অভিভাবকরা। তারা অভিযোগ করে বলেন, সমিলটির কারণে হাফেজিয়া মাদ্রাসায় ক্ষুদে ছাত্রদের জন্য প্রতিকূল পরিবেশ তৈরী হয়েছে। তাই শিক্ষার সুষ্ঠু পরিবেশ নিশ্চিত করার জন্য সংশ্লিষ্ট প্রশাসন জরুরি ভিত্তিতে কার্যকরি পদক্ষেপ নেবেন এমনটাই প্রত্যাশা করেন তারা। ওই এলাকার বাসিন্দা মো. রেজাউল করিম, রহমতুল্লাহ বারী, ছামছুল হক, রহমত আলী ও রেজাউল করিম অভিযোগ করে বলেন, সমিলটির ৫০গজ উত্তরে উলিপুর শাহী জামে মসজিদ ও হাফেজিয়া মাদ্রাসা রয়েছে।
এই ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানটিতে ৩০-৪০জন শিক্ষার্থী লেখাপড়া করে। এছাড়া একাধিক বাসা-বাড়ির ভবনে শতাধিক পরিবার বসবাস করেন। তাই নতুন গড়ে উঠা ওই করাতকলের কার্যক্রম চালু হওয়ার কারণে নানামুখি সমস্যার মধ্যে রয়েছেন তারা। বিশেষ করে গাছের ডাল-পালা কাঠার সময় গুঁড়া উড়ে এসে পড়ে আশপাশের এলাকায়। এমনকি পথচারী, শিক্ষার্থী ও আবাসিক এলাকায় বসবাসকারী মানুষের নাকে-মুখে ঢোকে অসুস্থ হয়ে পড়ছেন তারা। এছাড়া সমিলের চাহিদা মেটাতে নির্বিচারে ধ্বংস করা বনভূমি। ফলে পরিবেশের ভারসাম্য নষ্ট হচ্ছে। সরকার রাজস্ব হারাচ্ছে বলেও দাবি করেন তারা। তাই বিগত ছয়মাস আগেই উপজেলা বন কর্মকর্তার হস্তক্ষেপ কামনা করে একটি লিখিত অভিযোগও দেয়া হয়। কিন্তু রহস্যজনক কারণে ওই কর্মকর্তা নিশ্চুপ রয়েছেন বলেও অভিযোগ করেন তারা।
এদিকে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠা, অফিস-আদালত, হাসপাতাল ও ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান থেকে ২০০মিটারের মধ্যে করাতকল প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে নিষেধাজ্ঞা থাকলেও এখানে তা মানা হচ্ছে না। তাছাড়া সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত করাতকল চালানোর বিধান থাকলেও সেটিও মানা হয় না। বরং চালানো হয় গভীর রাত পর্যন্ত। ফলে জনবসতিপূর্ণ এলাকার বাসিন্দাদের দুর্ভোগ পোহাতে হয়। তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করে ওই করাতকলের মালিক মো. জহির উদ্দীন শাহীন বলেন, সমিলটি এখনো চালু করা হয়নি। তাই পরিবেশের ভারসাম্য নষ্ট হওয়ার প্রশ্নই ওঠে না। সেখানে কেবল মেশিন বসানোর কাজ চলছে। তবে স-মিল চত্বরে গাছের কাঠা ডাল-পালার স্তুপ রয়েছে বলে স্বীকার করেন তিনি। আর পৌরসভা থেকে ট্রেড লাইসেন্স ও পরিবেশ অধিদফতর থেকে ছাড়পত্র নিয়েই সমিল স্থাপনের কাজ করছেন বলেও দাবি করেন তিনি।
বিষয়টি সম্পর্কে জানতে চাইলে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ লিয়াকত আলী সেখ বলেন, এলাকাবাসীর অভিযোগটি তদন্তের জন্য বন কর্মকর্তা নির্দেশ দেয়া হয়েছে। প্রতিবেদন পেলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।






অফিস: হোল্ডিং#৩৫৯,রোড# ৮/২ মধ‍্য সরদারপাড়া, দুপচাঁচিয়া, বগুড়া।

সম্পাদক ও প্রকাশক: মো: মোছাব্বর হাসান মুসা। 01711366298/01812550877 mushanews2011@gmail.com

নির্বাহী সম্পাদক
ইমরানুল হাসান (বি এ অনার্স) ম‍্যানেজমেন্ট।

 

বার্তা সম্পাদক: মো:জাকারিয়া হাসান। 01796032336

মহিলা সম্পাদিকা: মোনিকা আক্তার মালা। ( বিএ অর্নাস) রাষ্ট্রবিজ্ঞান।