dannews24.com | logo

৩০শে বৈশাখ, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ | ১৩ই মে, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ

“মুড়ির গ্রাম আত্রাইয়ের তিলাবাদুরী”

প্রকাশিত : এপ্রিল ১৭, ২০২১, ২২:০৯

“মুড়ির গ্রাম আত্রাইয়ের তিলাবাদুরী”

আত্রাই (নওগাঁ) প্রতিনিধিঃ- রমজান মান সামনে রেখে সরগম হয়ে উঠেছে আত্রাই উপজেলার ছোট একটি গ্রাম যার নাম তিলাবাদুরীগ্রাম ।তবে গ্রামটির নাম আলাদা নামেই চিনতে স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করেন নওগাঁর আত্রাই উপজেলার মানুষ।আশে পাশের কয়েকটি জেলার মানুষের কাছে এর পরিচিতি‘মুড়ির গ্রাম’ নামে। তবে করোনা ভাইরাসের প্রভাব খুব বেশি পড়েনি মুড়ির গ্রামে।যানা যায়, রাসায়নিক সার কেমিক্যালমুক্ত মুড়ি উৎপাদন করে তিলাবাদুরী সহপার্শ্ববতী কয়েকটি গ্রামের মানুষ এখন স্বাবলম্বী। নিজেদের জমিতে উৎপাদিত ধান সিদ্ধ করে চাল বানিয়ে মুড়ি ভাজেন তারা।ফলে তাদের তৈরি এই মুড়ির চাহিদা রয়েছে ক্রেতাদের মাঝে ব্যাপক।রমজানে ইফতারের অপরিহায অনুষঙ্গ মুড়ি। সারা বছরে যে পরিমান মুড়ি উৎপাদন হয় রমজান মাস এলেই তা দ্বিগুন হয়ে যায়।শুধু রমজান মাসই নয়, সারা বছর এলাকার মানুষের চাহিদা মেটায় এ গ্রামের মুড়ি।রমজান এসছে তাই দম ফেলার সুযোগ নেই তিলাবাদুরী গ্রামের শতাধিক পরিবারের আমন, বিনা-7,হরি ধান,29ধান, 16ধান,52ধানের মুড়ি উৎপাদিত হয় এই এলাকায়। ভালো মুড়ি দিয়ে ইফতারের জন্য রমজান মাস শুরু থেকে জেলার বিভিন্ন প্রান্ত থেকে অনেকেই ছুটে আসনে এই গ্রামে। ইতোমধ্যে এখান থেকে মুড়ি ক্রয় করে রাজধানীর ঢাকা,রাজশাহী,পাবনা,বগুড়া,কুষ্টিয়া,ফরিদপুর রাজবাড়ী, নীলফামারীর সৈয়দপুর, সিরাজগঞ্জসহ দেশের নানা অঞ্চলে নিয়ে যাচ্ছে পাইকাররা।তবে ধানের দাম এ বছর বেশি হওয়ায় এবার বিপাকে পড়েছেন মুড়ি উৎপাদনকারীরা।সরেজমিনে তিলাবাদুরী,জামগ্রাম,চামটা, স্বগুনা ও চামটা, নলদীঘি গ্রামে দেখা যায়, গ্রামের প্রায় প্রতিটি বাড়িতেই তৈরি হচ্ছে “হাতে ভাজা” রাসায়নিক সার কেমিক্যালমুক্ত মুড়ি। বাতাসে ঝনঝন শনশন মুড়ি ভাজার শব্দ।প্রতিটি বাড়িতেই মুড়ি ভাজার জন্য রয়েছে আলাদা ঘর। এ কাজে নিয়োজিত বাড়ির মেয়েদের কেউবা ঊঠানে ধান শুকাচ্ছে, মাঝে মাঝে সেই ধান নেড়ে দিচ্ছে, মাটির চুলায় চাল গরম করছে আর সেই চাল নারিকেলের খিল কিংবা পাটসোলা দিয়ে নাড়াচাড়া কেরছে।কেউবা সেই গরম চাল মাটির পাতিলে রাখা বালিতে পাটসোলা দিয়ে নাড়াচাড়া করছেন।সঙ্গে সঙ্গে সেই চাল থেকে ফুটে যাচ্ছে মুড়ি।মুড়িতৈরিতে গ্রামের নারীদের পাশাপাশি ভাজা থেকে শুরু করে বাজারজাত করণেকাজে প্রত্যক্ষভাবে জড়িয়ে রয়েছেনএখানকার পুরুষেরাও।ভোর থেকে ভাজা শুরু হওয়া এসব মুড়ি সকাল হলে নিয়ে যাওয়া হয় বিভিন্ন হাটবাজার ও আড়তে। এ ছাড়াও নওগাঁ-বগুড়া মহাসড়কের ডাল সড়ক এলাকায় রয়েছে বেশ কয়েকটি মুড়ির আড়ৎ। স্থানীয় মুড়ি বিক্রেতা এবং দূরদূরান্ত থেকে আসা পাইকারদের সমাগম ঘটে আড়ৎ গুলোতে।তা ছাড়া ডাল সড়ক আবাতপুকুর বাজার,রানিনগর সদর উপজেলা বাজার, নওগাঁ শহর, আত্রাইউপজেলার,ভবানীপুরবাজার,আত্রাই আহসানগঞ্জ বাজার, স্টেশন বাজার, সিংসাড়া বাজার,বান্দাইখাড়া বাজার সহ বিভিন্ন হাটবাজার আড়ৎ গুলোতে নানা রকমের মুড়ি বেচাকেনা হয়। হাটবাজার ও আড়ৎগুলোতে আমন ও হরি ধানের মুড়ির চাহিদা বেশি।

আমন মুড়ি বিক্রি হচ্ছে প্রতিমন মুড়ি চার হাজার থেকে চার হাজার পাঁচশত টাকা।তিলাবাদুরী গ্রামের নিমাইচন্দ্র মুড়ি উৎপাদনকারী বলেন,শুধু মুড়ি কিনতেই রমজান মাসে এই গ্রামে আসেন অনেক মুড়ির পাইকাররা।তবে এই ডিজিটাল যুগে নানা স্থানেমেশিন দ্বারা তৈরিকরা প্যাকেটকরা মুড়ি তাদের হাতে ভাজা মুড়ির সুনাম নষ্ট করছে।আমাদেরতৈরি হাতে ভাজা মুড়ি শুধু লবন আর বালু দারা তৈরি করা হয়।তাই সারা বছরধরে তাদের হাতে ভাজা মুড়ির চাহিদা বেশি থাকে।স্বগুনা গ্রামের অচনাদেবী বলেন, একমন চালের মুড়ি ভাজলে 10 থেকে 12কেজি মুড়ি তৈরি হয়।আমরা সংসারের অন্যান্য কাজের অবসরে মুড়ি ভাজার কাজ করি। মুড়ি ব্যবসায়ী জাহিদুল ইসলাম জানান, এ ব্যবসা স্বল্প পুঁজির হলেও প্রতিদিন দুই থেকে তিন লাখ টাকার মুড়ি বিক্রয় হয় স্থানীয় আড়ৎ গুলোতে।তা ছাড়া স্বল্প পুঁজির এ ব্যবসা করে তিলাবাদুরীর গ্রাম সহ পার্শ্ববতী গ্রামের মানুষেরা দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন।






অফিস: হোল্ডিং#৩৫৯,রোড# ৮/২ মধ‍্য সরদারপাড়া, দুপচাঁচিয়া, বগুড়া।

সম্পাদক ও প্রকাশক: মো: মোছাব্বর হাসান মুসা। 01711366298/01812550877 mushanews2011@gmail.com

নির্বাহী সম্পাদক
ইমরানুল হাসান (বি এ অনার্স) ম‍্যানেজমেন্ট।

 

বার্তা সম্পাদক: মো:জাকারিয়া হাসান। 01796032336

মহিলা সম্পাদিকা: মোনিকা আক্তার মালা। ( বিএ অর্নাস) রাষ্ট্রবিজ্ঞান।