dannews24.com | logo

৭ই কার্তিক, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ | ২৩শে অক্টোবর, ২০২০ খ্রিস্টাব্দ

আমের উৎপাদনে শীর্ষে নওগাঁ জেলায় ৪ লাখ ২০ হাজার মেট্রিকটন আম উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা

প্রকাশিত : জুন ২৭, ২০২০, ১৬:১৬

আমের উৎপাদনে শীর্ষে নওগাঁ জেলায় ৪ লাখ ২০ হাজার মেট্রিকটন আম উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা

Spread the love

মাহমুদুন নবী বেলাল নওগাঁ: চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলাকে ছাড়িয়ে আম উৎপাদনে শীর্ষে এখন ‘নওগাঁ’। চলতি মৌসুমে নওগাঁয় ৪ লাখ ২০ হাজার মেট্রিকটন আম উৎপাদনের লক্ষ্য মাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। যা থেকে প্রায় ১ হাজার কোটি টাকার আম কেনা-বেচা হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। সারাদেশে আম উৎপাদনে শীর্ষে চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা পরিচিত হলেও বর্তমানে সারাদেশে আম উৎপাদনে শীর্ষে নওগাঁ রয়েছে। ফলে আমের ‘রাজত্ব’ শুরু করেছে এবং ‘আমের রাজধানী’ হিসেবে নওগাঁ পরিচিত হবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
চলতি বছরে নওগাঁয় ১১টি উপজেলায় ২৪ হাজার ৭শ’ ৭৫ হেক্টর জমিতে আম চাষ করা হয়েছে। নওগাঁয় গত বছরের তুলনায় চলতি বছরে ছয় হাজার হেক্টরেরও বেশি জমিতে আম চাষ করা হয়েছে। আগামীতেও বরেন্দ্র ভূমি হিসেবে পরিচিত পোরশা, সাপাহার, নিয়ামতপুর ও পত্নীতলায় হাজার হাজার বিঘা জমিতে আম গড়ে ব্যাপক সম্ভবনা দেখা দিয়েছে।
চলতি মৌসুমে নওগাঁর আম চাষিরা কনোরা ভাইরাসের কারণে বিপাকে পারেন। আম চাষিদের নায্য মূল্য কেনা-বেচা নিশ্চিত করতেই খাদ্যমন্ত্রী ও নওগাঁ জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সাধন চন্দ্র মজুমদার এমপি আম পাকার আগে থেকেই জেলা, পুলিশ, স্থানীয় প্রশাসন, আম চাষি, ব্যবসায়ী ও স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের নিয়ে একাধিকবার ভিডিও কনফারেন্স করেছেন।
খাদ্যমন্ত্রী সাধন চন্দ্র মজুমদার বলেন, যে সব জায়গা থেকে আম ও লিচু যাবে রাস্তায় কোন ট্রাক যেন প্রতিবন্ধকতার মুখে না পড়ে, সে জন্য দৃষ্টি রাখবে সরকার। অ্যাপসের মাধ্যমে শুধুমাত্র আমের বাজারের সাথে নয়, পরিবহনের সাথেও যোগাযোগ থাকবে। সরকারী পরিবহনের সাথে, এমনকি বন্দরে ট্রাক কাভার্ড ভ্যানের সাথেও যুক্ত থাকবে। এছাড়াও ৮টি সংস্থার সাথে সংযুক্ত থাকবে। তাদের বললেই সেখানে চলে গিয়ে নিয়ে আসবে এসব পণ্য। আম নিয়ে ঢাকায় পৌঁছে দেয়ার পর খালি ট্রাক ফিরে গেলে যমুনা সেতুতে টোল ৫০ ভাগ নেয়া হবে। পাশাপাশি হাসপাতালে রোগীদের খাদ্যে কলার পরিবর্তে আম দেয়া, পুলিশ ব্যারাকে আমের বাজার গড়ে তোলা, সেনাবাহিনীতে আমের বাজার গড়ে তোলা ইত্যাদি ব্যবস্থা করা হচ্ছে, যাতে আম চাষীরা আমের নায্য মূল্য পায়। সে জন্য নওগাঁর জেলা প্রশাসকসহ প্রশাসনের কর্মকর্তাদের নির্দেশ দেন তিনি।
এ ছাড়াও ইত্যে মধ্যে নওগাঁর পোরশা উপজেলার সরাইগাছীতে খাদ্যমন্ত্রী ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে আম কেনার হাট-বাজারের উদ্বোধন করেন। ফলে পোরশা উপজেলার শতশত আম চাষিদের আম কেনা-বেচার কষ্ট অনেকটাই লাঘব হয়েছে। পোরশা উপজেলার আম চাষিরা আগে প্রায় ১৮ কিলোমিটার দূরে সাপাহার উপজেলায় আসতেন। ফলে তাদের পরিবহণ খরচ বৃদ্ধি পেতো।
নওগাঁ কৃষি বিভাগের সূত্রে জেলায় আমপানসহ কয়েকটি ছোট ঝড়ে কাঁচা আমের ৫ ভাগ ক্ষতি হলেও সেটি আম পোক্ত হওয়ার সাথে সাথে ক্ষতি পুষিয়ে গেছে। তবে কৃষকরা বলছেন, ঝড়ে তাদের আমের প্রায় ২০ ভাগ ক্ষতি হয়েছে।
চাঁপাইনবাবগঞ্জ কৃষি বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, চাঁপাইনবাবগঞ্জে চলতি আম মৌসুমে ৩৩ হাজার ৩৫ হেক্টর জমিতে আম চাষ করা হয়েছে। আমপান ও ঝড়ের কারণে আমের ক্ষতি হওয়ায় ২ লাখ মেট্রিকটন আম উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। হত বছর ৩১ হাজার হেক্টরের একটু বেশি জমিতে আম চাষ করা হয়। গত বছর আম চাষে আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় ২ লাখ ৩৯ হাজার মেট্রিকটন আম উৎপাদন হয়েছিল।
চাঁপাইনবাবগঞ্জ কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক নজরুল ইসলাম জানান, গত বছরের তুলনায় মাত্র ২ হাজার হেক্টরের মতো বেশি জমিতে আম চাষ করা হয়েছে। দিনদিন কৃষি জমিতে বাড়ি-ঘর, রাস্তা-ঘাট, শিল্পকারখান গড়ে তোলায় কৃষি জমির পরিমাণ কমছে। এ কারণে আগামিতে জেলায় আম বাগন গড়ে উঠার তেমন লক্ষণ নেই। এ ছাড়াও অন্য কারণ হিসেবে তিনি উল্লেখ করেন প্রতি বছর আমের ভালো ফলন হয় না। যার কারণেই কৃষকরা ধান, ভুট্টা, গমসহ অন্যান্যে ফসল চাষ করে থাকেন। তিনি আরো বলেন, চাঁপাইনবাবগঞ্জে আমের গাছগুলো বেশি ভাগই বড়। সেই সব গাছ কেটে এবং নতুন আম বাগান গড়ে তুলতে আগ্রহী চাষিদের লেইট ভেরাইটিজ (দেরিতে পাকা) বারি-৪, গৌড়মতি ও যাদুভোগ জাতের আম লাগানোর জন্যে পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। কারণ এই সকল আম গুলো দেরিতে পাকে। ফলে কৃষকরা আমের বেশি দাম পেয়ে থাকেন। লেইট ভ্যারাইটিজের মধ্যে ‘যাদুভোগ’ বিশেষ ধরণের অর্থাৎ টক-মিষ্টি বারোমাসি জাতের আম। জেলায় গত ৩/৪ বছর থেকে ইত্যে মধ্যে ‘যাদুভোগ’ ৭/৮শ’ হেক্টর জমিতে চাষ করা হয়েছে।
নজরুল ইসলাম আরো বলেন, নওগাঁয় ৫ বছর আগে কিছু দিন চাকুরী করেছি। তখন সেখানে দেখেছি নওগাঁয় বরেন্দ্র ভূমিতে হাজার হাজার বিঘা বছরের বেশি ভাগ সময় পানির অভাবে পরে থাকে অর্থাৎ তেমন কোন আবাদ হয় না। যার কারণে নওগাঁয় আগামীতে আরো হাজার হাজার বিঘা জমিতে আম বাগান গড়ে উঠার সম্ভবনা রয়েছে।
নাটোর কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক সুব্রত কুমার সাহা জানান, ছোট জেলা নাটোরে গত বছরের তুলনায় তেমন উল্লেখ্যযোগ্য ভাবে আম বাগান গড়ে উঠেনি। চলতি বছর জেলায় ৫ হাজার ৫শ’ ২০ হেক্টর জমিতে আম চাষ করা হয়েছে। ঝড়ে ক্ষতি হলেও এ থেকে ৭৭ হাজার ৩শ’ ৭ মেট্রিকটন আম উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। জেলার মধ্যে লালপুর, বাগাতিপাড়া, বড়াইগ্রাম, গুরুদাসপুর ও নাটোর সদর উপজেলাতেই বেশি আম চাষ করা হয়ে থাকে। আর সিংড়া উপজেলা চলন বিল হওয়ায় তেমন আমের বাগান গড়ে উঠেনি। আম চাষিদের বারোমাসি, বারি-৪ ও ১১ নতুন জাতের আম চাষে উদ্বুদ্ধ করা হচ্ছে।
রাজশাহী কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক শামছুল হক জানান, রাজশাহীতে গত ২/৩ বছর থেকে তেমন আম বাগান গড়ে উঠছে না। গত বছরের তুলনায় মাত্র ১শ’ ২৫ হেক্টর বেশি জমিতে আম বাগান গড়ে উঠেছে। অর্থাৎ চলতি বছরে ১৭ হাজার ৬শ’ ৮৬ হেক্টর জমিতে থেকে ২ লাখ ১০ মেট্রিকটন আম উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। তিনি আরো বলেন, রাজশাহীর আমবাগানগুলো অনেক পুরাতন অর্থাৎ বড়বড় গাছ। যে সকল কৃষকরা আম বাগান কেটে নতুন বাগান গড়ে তুলতে চাইছেন তাদের লেইট ভ্যারাইটিজ বারি-৪ ও গোড়মতি জাতের আম চাষে উদ্বুদ্ধ করা হচ্ছে। ইত্যে মধ্যে রাজশাহীতে ৫০ হেক্টর জমিতে গোড়মতি জামের আম বাগান গড়ে তোলা হয়েছে। শামছুল হক জানান, গোড়মতি জামের আমের বিশেষত্ব হলো, আমের রাজা ল্যাংরার মিষ্টাতা এবং আশ্বিনা আমের সময় নিয়ে গোড়মতি আম উদ্ভাবন করা হয়েছে। ফলে আশ্বিনার আমের পরেও এই গোড়মতি আম পাকে। এ সময় দেশে অন্য কোন জাতের আম থাকে না। ফেলে গোড়মতি প্রতি মণ আম ৮/৯ হাজার টাকায় কেনা বেচা হয়ে থাকে।
নওগাঁ কৃষি বিভাগ ও কৃষকরা বলছেন, ধানসহ অন্যান্য ফসল চাষ করার চেয়ে আম চাষে বেশি লাভ হওয়া ও কম পরিশ্রম লাগায় বরেন্দ্র ভূমি হিসেবে পরিচিত পোরশা, সাপাহার, নিয়ামতপুর ও পত্নীতলার কৃষকরা আম চাষে ঝুঁকে পরেছেন। ফলে প্রতি বছরই হাজার হাজার বিঘা জমিতে আম বাগান গড়ে উঠছে।
কৃষি বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, গত বছর নওগাঁয় ১৮ হাজার ৬শ’ ৬৬ হেক্টর জমিতে গোপালভোগ, ল্যাংরা, খিরাশাপাতি, অ¤্রপালি, নাগফজলি, বারি-৪, মল্লিকা, গুটিসহ বিভিন্ন জাতের আম চাষ করা হয়।
নওগাঁয় চলতি মৌসুমে পোরশায় ১০ হাজার হেক্টর, সাপাহারে ৮ হাজার ২শ’ ৫০ হেক্টর, পত্নীতলায় ৩ হাজার ১৫ হেক্টর, নিয়ামতপুরে ১ হাজার হেক্টর, ধামইরহাটে ৬শ’ ৭০ হেক্টর, মহাদেবপুরে ৬শ’ ২৫ হেক্টর, নওগাঁ সদরে ৪শ’ ৪০ হেক্টর, মান্দায় ৪শ’ হেক্টর, বদলগাছীতে ৩শ’ ৩৫ হেক্টর, আত্রাইয়ে ৩৫ হেক্টর ও রাণীনগরে ৫ হেক্টর জমিতে আম চাষ করা হয়েছে।

Mob: ০১৭১১-৩৬৬২৯৮, ০১৮১২-৫৫০৮৭৭

ই-মেইল mushanews2011@gmail.com




সম্পাদক ও প্রকাশক: মো: মোছাব্বর হাসান মুসা।

নির্বাহী সম্পাদক
ইমরানুল হাসান (বি এ অনার্স) ম‍্যানেজমেন্ট।

বার্তা সম্পাদক: মো:জাকারিয়া হাসান।

মহিলা সম্পাদিকা: মোনিকা আক্তার মালা।

অফিস: হোল্ডিং#৩৫৯,রোড# ৮/২ মধ‍্য সরদারপাড়া, দুপচাঁচিয়া, বগুড়া।