dannews24.com | logo

১২ই কার্তিক, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ | ২৮শে অক্টোবর, ২০২০ খ্রিস্টাব্দ

করোনামুক্ত রাজশাহী নগরী এখন জেলার শীর্ষে

প্রকাশিত : জুন ২৭, ২০২০, ১২:৪১

করোনামুক্ত রাজশাহী নগরী এখন জেলার শীর্ষে

তমাল ইসলাম, রাজশাহী প্রতিনিধি: করোনামুক্ত নগরী হিসেবে খ্যাত ছিল রাজশাহী নগরী। কিন্ত বর্তমানে সেই খ্যতি হারিয়ে ফেলে রাজশাহী জেলার মধ্যে সবচেয়ে বেশি করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে শীর্ষে  অবস্থান করছে নগরী।

গতকাল রাজশাহীতে একদিনেই ৬৬ জনের করোনাভাইরাস শনাক্ত হয়েছে। নতুন ৬৬ জন শনাক্ত হওয়ায় রাজশাহীতে আক্রান্ত বেড়ে দাঁড়ালো ৪৭৭  যার মধ্যে  নগরীতেই আক্রান্ত সংখ্যা  ৩৩৫ জন।

যাদের মধ্যে পুলিশ, র‌্যাব সদস্য, চিকিৎসক, নার্স ও স্বাস্থ্য কর্মীসহ ৬২ জন নগরের। বাকি চারজনের বাড়ি জেলার বাগমারা ও চারঘাট উপজেলায়।

রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক) এবং হাসপাতালের বর্হিবিভাগের ল্যাবে শুক্রবার তাদের নমুনা পরীক্ষা হয়। এর মধ্যে হাসপাতাল ল্যাবে রাজশাহীর ৬০ জনের নমুনায় করোনাভাইরাস শনাক্ত হয়। যার মধ্যে ৫৮ জনই রাজশাহী মহানগরীতে। বাকি দুইজন চারঘাট উপজেলার।

রামেক হাসপাতালের উপপরিচালক ডা. সাইফুল ফেরদৌস জানান, এ দিন তাদের ল্যাবে মোট ১৫২টি নমুনার রিপোর্ট হয়েছে। এর মধ্যে পাঁচটি নমুনা বাতিল হয়। ফলাফল এসেছে ১৪৭ নমুনার। এর মধ্যে ৬০টি নমুনা করোনা পজিটিভ পাওয়া গেছে। আক্রান্তদের মধ্যে রাজশাহী সিটি করপোরেশনের (রাসিক) কর্মী, পুলিশ ও চিকিৎসা কর্মীসহ সাধারণ মানুষ রয়েছেন।

আক্রান্তদের মধ্যে সাতজন রাজশাহী সিটি করপোরেশনের কর্মী। এরা হলেন- আলাউদ্দিন (৪৬), আজিজুন্নাহার (৩৭), হাসিবর রহমান (৫০), আক্তারুন্নেসা (৪০), আফসানা পারভিন (২৫), জাহাঙ্গীর (৪৮) ও রাসেল (২৪)।

আক্রান্তদের মধ্যে ১০ জন পুলিশ সদস্য। তারা সবাই বিভাগীয় পুলিশ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। এরা হলেন- আতিকুল ইসলাম (২৮), আবু রায়হান (৪০), নাজমুল ইসলাম (৪৬), এজাবুল হক ৪৪), সোহেল রানা (২৮), ইসমাইল হক (৩৯), জেবর আলী (৩৩), আবদুল মজিদ (৫০), শ্যাম লাল এক্কা (২৯) ও ইবনে মিজান (৩১)।

এছাড়া রামেক হাসপাতালের ১৩ নম্বর ওয়ার্ডের ডা. মো. হাবিবুল্লাহ (২৫), সিনিয়র স্টাফ নার্স বেলাল উদ্দিন সোহেল (৩৫), সেলিনা খাতুন (৩২), বয় সঞ্জিত রায় (৪১), ২৯ নম্বর ওয়ার্ডের রোগী জেসমিন বেগম (৩০), নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রের (আইসিইউ) মৃত রোগী বুলবুলি (৬০) এবং সংক্রমক ব্যাধি হাসপাতালের রোগী কানাইয়ের (৫০) করোনা পজিটিভ এসেছে। বিভাগীয় স্বাস্থ্য দপ্তরে কর্মরত নূর আলম সিদ্দিক (৩৭) এবং জেলার চারঘাট উপজেলার বাসিন্দা সেন্টু সরকার (২৯) ও লাবনীর (২৫) সংক্রমণ ধরা পড়েছে এ দিন।

করোনা শনাক্ত অন্য রোগীরা হলেন- নগরীর কেশবপুরের পার্থ চৌধুরী (৩৪), ঘোড়ামারার এসএম রোকনুজ্জামান (৩১), মনিরুজ্জামান (৬৪), কাজিহাটার আবদুস সালাম (৩৯), নগরীর ২ নম্বর ওয়ার্ডের আমজাদ হোসেন (৫৫), ৪ নম্বর ওয়ার্ডে রাব্বি আহমেদ (২৪), মনির হোসেন (২৭), আসলাম হোসেন (২৫), জুয়েল রানা (২৪), মেহেদী হাসান (২৫), শিমুল রানা (২৪), ফজলুল হক (৪০), কাওসার হোসেন (২৫), রুহুল আমিন (২৫), সাহাবুল প্রামানিক (২২), আবদুল হাকিম (২৫), মোহাম্মদ আলী (২৩), তরিকুল ইসলাম (২২), সাজ্জাদ হোসেন (২৫), নগরীর ৮ নম্বর ওয়ার্ডের ফারজিনা (৩০), সাফিদ (৭), ৫ নম্বর ওয়ার্ডে মুসলিমা বেগম (৬৪), ৭ নম্বরের এহসানুল কবীর (৪০), আফরোজা বেগম (৬০), ১৩ নম্বরের মোস্তাফিজুর (২৯), মাইনুল হক (৬৯), ২০ নম্বরের হাসিনা জামান (৪০), ৩ নম্বরের আতিয়া নাসরিন (৩০), ৫ নম্বরের আবিদ হাসান (২৬), ১১ নম্বরের তন্ময় চন্দ্র (২০), ১৪ নম্বরের এনএস মনজুরুল ইসলাম (৫৬) এবং ২৩ নম্বর ওয়ার্ডের কমলিনী (৬৫)।

এর আগে শুক্রবার রাজশাহী মেডিকেল কলেজের ল্যাবে মোট ১৯ জনের নমুনায় করোনা শনাক্ত হয়। এর মধ্যে চারজন রাজশাহী নগরীর এবং দুইজন জেলার বাগমারা উপজেলার বাসিন্দা। ল্যাব ইনচার্জ ডা. সাবেরা গুলনাহার বলেন, রামেক ল্যাবে দুই শিফটে ১৮৮ জনের নমুনা পরীক্ষা হয়েছে। এর মধ্যে ফলাফল পাওয়া গেছে ১৮১ জনের নমুনার। যার মধ্যে ১৯ জনের নমুনায় করোনা পজেটিভ এসেছে। এদের মধ্যে রাজশাহীর ৬ জন ও পাবনার ১৩ জন। রাজশাহী ৬ জনের মধ্যে নগরীর ৪ জন ও বাগমারার দুইজন।

এ ল্যাবে শনাক্ত বাগমারার দুইজন হলেন- মোস্তফা (৫০) ও মোবারক হোসেন (৩০)। নগরীতে থাকা চারজনের মধ্যে তিনজনই র‌্যাব সদস্য। তারা হলেন- র‌্যাব-৫ এ কর্মরত রাজিব ইসলাম (৩৬), কাজী শহিদুল ইসলাম (৩২) ও রাজিব আহম্মেদ (৩২)। আক্রান্ত অন্যজন রামেক হাসপাতালের চিকিৎসক মেহেদী হাসান (২৭)।

গত ১২ এপ্রিল প্রথম কোভিড-১৯ পজিটিভ রোগী শনাক্ত হয়েছিল রাজশাহী জেলায়। আর  (১৫ মে) প্রথম শনাক্ত হয়েছিল রাজশাহী নগরীতে

Facebook Comments

অফিস: হোল্ডিং#৩৫৯,রোড# ৮/২ মধ‍্য সরদারপাড়া, দুপচাঁচিয়া, বগুড়া।




সম্পাদক ও প্রকাশক: মো: মোছাব্বর হাসান মুসা।

নির্বাহী সম্পাদক
ইমরানুল হাসান (বি এ অনার্স) ম‍্যানেজমেন্ট।

 

বার্তা সম্পাদক: মো:জাকারিয়া হাসান।

মহিলা সম্পাদিকা: মোনিকা আক্তার মালা।