dannews24.com | logo

১২ই কার্তিক, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ | ২৮শে অক্টোবর, ২০২০ খ্রিস্টাব্দ

শেরপুরে রেজিষ্ট্রি অফিস এলাকায় বাজার, স্বাস্থ্যবিধি না মানায় করোনা সংক্রমণের ঝুঁকি

প্রকাশিত : জুলাই ২০, ২০২০, ১৫:০০

শেরপুরে রেজিষ্ট্রি অফিস এলাকায় বাজার, স্বাস্থ্যবিধি না মানায় করোনা সংক্রমণের ঝুঁকি

শেরপুর (বগুড়া) প্রতিনিধি: বগুড়ার শেরপুরে মহামারী করোনার সংক্রমণ ঠেকাতে প্রশাসনের পক্ষ থেকে নানা উদ্যোগ নেয়া হয়। বিশেষ করে কেনাকাটায় সামাজিক দূরত্ব নিশ্চিত করতে শহরের রেজিষ্ট্রি অফিস এলাকাস্থ বাজারটি পাশের হাটখোলার মধ্যে স্থানান্তরের সিদ্ধান্ত নেয় উপজেলা প্রশাসন। পরবর্তীতে সেই সিদ্ধান্ত অনুযায়ী প্রায় মাসখানেক ধরে ওই জায়গায় বাজার বসানো হয়। স্বাস্থ্যবিধি মেনে এই বাজারে আসা ক্রেতা-বিক্রেতাগণ কেনাকাটা করছিলেন। এতে করে সবার মাঝেই স্বস্থি ফিরে আসে। কিন্তু বিগত কয়েকদিন ধরে দেখা যাচ্ছে ভিন্ন চিত্র। প্রশাসনের সিদ্ধান্তকে বৃদ্ধাঙলি দেখিয়ে রেজিষ্ট্রি অফিস এলাকায় আবারও বাজার বসানো হয়েছে। স্থানীয় একটি প্রভাবশালী মহলের নগদ স্বার্থে এখানে বাজার বসানো হয়েছে। সেখানে সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখান কোন বালাই নেই। এমনকি জায়গা সংকটের কারণে গাদাগাদি করে কেনাকাটা করতে বাধ্য হচ্ছেন ক্রেতা সাধারণ। এ অবস্থায় মানা হচ্ছে না স্বাস্থ্যবিধিও। ফলে করোনা সংক্রমণের ঝুঁকি বাড়ছে।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, পৌরশহরের রেজিষ্ট্রি অফিসে আসা-যাওয়ার সড়কের দু’পাশে প্রতিদিন সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত বাজার বসছে। কয়েকশ’ দোকানি হরেক রকমের পসরা সাজিয়ে বসে আছেন। আর এসব দোকানে কেনাকাটার জন্য অসংখ্য মানুষ একত্রিত হয়েছেন সামাজিক দূরত্ব না মেনেই। কেউ মাছ কিনছেন। কেউ আবার সবজি কিনছেন। স্বাস্থ্যবিধি মেনে দোকান খোলার নির্দেশনা থাকলেও অনেক দোকানদার তা মানছেন না। এমনকি বাজারের অধিকাংশ মানুষই মাস্ক পড়েন নি। গা ঘেষাঘেষি করে কেনাকাটায় ব্যস্ত সময় পার করছেন ক্রেতা-বিক্রেতারা। সরকারি নির্দেশনা উপেক্ষা এভাবে বাজারটি চলতে থাকলে করোনা সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা করছেন সচেতন মহল। তাদের অভিযোগ, করোনা দুর্যোগের শুরু থেকে স্থানীয় উপজেলা প্রশাসন ও আইন প্রয়োগকারী সংস্থার কঠোর তৎপরতায় মানুষ নিয়ন্ত্রণে ছিল। সবাই সরকারি নির্দেশনা মেনেই বাড়ি থেকে বের হতেন। কিন্তু কিছুদিন ধরে প্রশাসনের মধ্যে শিথিলতা ভাব লক্ষ্য করা যাচ্ছে। এমনকি তাদের রহস্যজনক ভূমিকার কারণে আবার সেই পুরণো চিত্রই দেখা মিলছে। সামাজিক দূরত্ব না মেনে বাজারটিতে এভাবে জনসমাগম হওয়ায় করোনার সংক্রমণ আরও বেড়ে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে বলে শঙ্কা প্রকাশ করেন তারা। বিষয়টি সম্পর্কে জানতে চাইলে শেরপুর নাগরিক স্বার্থ সংরক্ষণ কমিটির সভাপতি আলহাজ¦ মুনসী সাইফুল বারী ডাবলু বলেন, মানুষের নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য কেনাকাটার জন্য নির্ধারিত সময়ের জন্য বাজার বসার অনুমতি রয়েছে। সেটি কোন জায়গায় বসলো সেটি বিবেচ্য বিষয় নয়। তবে মহামারী করোনা সংক্রমণ ঠেকাতে হাট-বাজারগুলো অবশ্যই সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখতে হবে। অন্যথায় প্রাণঘাতী এই ভাইরাসটি ছড়ার শঙ্কার কথা জানিয়ে নাগরিক স্বার্থ সংরক্ষণ কমিটির এই সভাপতি হাট-বাজারগুলোতে সরকারি নির্দেশনা ও স্বাস্থ্যবিধি কার্যকর করার দাবি জানান। শেরপুর পৌরসভার সংশ্লিষ্ট ওয়ার্ডের কাউন্সিলর ফিরোজ আহমেদ জুয়েল বলেন, সড়কের উভয়পাশে কম জায়গার মধ্যে রেজিষ্ট্রি অফিস বাজারটি বসে। তাই সেখানে সামাজিক দূরত্ব মেনে বিপুল সংখ্যক লোকজনের কেনাকাটা করা সম্ভব নয়। এ অবস্থায় উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে এই বাজারটি হাটখোলার মধ্যে বিশাল আয়তনের জায়গায় স্থানান্তর সিদ্ধান্ত নেয়। সেই সিদ্ধান্তের আলোকে অনেকটা ঢাক-ঢোল পেটিয়েই ওই জায়গায় বাজার বসানো হয়েছিল। কিন্তু অদৃশ্য কারণে প্রশাসনকে বৃদ্ধাঙলি দেখিয়ে এবং তাদের সিদ্ধান্ত ছাড়াই গত তিন-চারদিন ধরে আবারও রেজিষ্ট্রি অফিস এলাকায় বাজার বসছে। করোনা দুর্যোগের মধ্যে কার স্বার্থে এমনটি করা হলো শহরবাসী তা জানতে চায়-এমন প্রশ্ন তোলেন পৌরসভার এই কাউন্সিলর। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. লিয়াকত আলী সেখ এ প্রসঙ্গে বলেন, সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী সামাজিত দূরত্ব নিশ্চিত করতেই রেজিষ্ট্রি অফিসের বাজারটি হাটের মধ্যে স্থানান্তর করা হয়েছে। কিন্তু তাদের সিদ্ধান্ত উপেক্ষা করে রেজিষ্ট্রি অফিস এলাকায় আবারও বাজার বসানো হলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেয়া হবে। সরকারি নির্দেশনা বাস্তবায়ন ও স্বাস্থ্যবিধি ভঙকারীদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করা হবে বলেও দাবি করেন তিনি।

Facebook Comments

অফিস: হোল্ডিং#৩৫৯,রোড# ৮/২ মধ‍্য সরদারপাড়া, দুপচাঁচিয়া, বগুড়া।




সম্পাদক ও প্রকাশক: মো: মোছাব্বর হাসান মুসা।

নির্বাহী সম্পাদক
ইমরানুল হাসান (বি এ অনার্স) ম‍্যানেজমেন্ট।

 

বার্তা সম্পাদক: মো:জাকারিয়া হাসান।

মহিলা সম্পাদিকা: মোনিকা আক্তার মালা।