dannews24.com | logo

১২ই কার্তিক, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ | ২৮শে অক্টোবর, ২০২০ খ্রিস্টাব্দ

বগুড়ার শেরপুরের তিন চাল ব্যবসায়ীকে নানাভাবে হয়রানির অভিযোগ পাওনা টাকা চাওয়ায় সংবাদ সম্মেলনে নিরাপত্তা ও ন্যায় বিচার দাবি

প্রকাশিত : জুলাই ২১, ২০২০, ১৫:৪৬

বগুড়ার শেরপুরের তিন চাল ব্যবসায়ীকে নানাভাবে হয়রানির অভিযোগ পাওনা টাকা চাওয়ায় সংবাদ সম্মেলনে নিরাপত্তা ও ন্যায় বিচার দাবি

শেরপুর (বগুড়া) প্রতিনিধি:পাওনা টাকা চাওয়ায় বগুড়ার শেরপুরের তিন চাল ব্যবসায়ীকে নানাভাবে হয়রানি করছে ময়মনসিংহ জেলার সংঘবদ্ধ একটি প্রতারক চক্র। এমনকি বেশি বাড়াবাড়ি করলে তাদের প্রাণনাশ করা হবে বলেও অব্যাহতভাবে হুমকি-ধামকি দিচ্ছেন ওই চক্রের সদস্যরা। এ অবস্থায় চরম নিরাপত্তাহীনতার মধ্যে দিনাতিপাত করছেন তারা। গতকাল মঙ্গলবার (২১জুলাই) শহরের স্থানীয় বাসষ্ট্যান্ড শেরপুর প্রেসক্লাব কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে দুবলাগাড়ী বাজারস্থ উত্তরবঙ্গ রাইচ এজেন্সির মালিক মো. রফিকুল ইসলাম এসব অভিযোগ করেন। লিখিত বক্তৃতায় এই চাল ব্যবসায়ী বলেন, ময়মনসিংহ জেলার মুক্তাগাছা উপজেলার নসিবপুর গ্রামের জয়নাল আবেদীনের ছেলে মোশারফ হোসেন ও নরসিংদী জেলার মনোহরদী উপজেলার হারুরদিয়া গ্রামের খোকা মিয়ার ছেলে আলমগীর হোসেন নিজেদের চাল ব্যবসায়ী পরিচয় দেন।

পরবর্তীতে আমার প্রতিষ্ঠান থেকে প্রায় অর্ধকোটি টাকার চাল বাকিতে কিনে নিয়ে যান। কিন্তু চাল নিয়ে যাওয়ার পর থেকেই পাওনা টাকা পরিশোধে তালবাহানা শুরু করেন। তাদের মোবাইল নম্বরে ফোন দেয়া হলেও রিসিভ করেন না। একপর্যায়ে সব ধরণের যোগাযোগও বন্ধ করে দেন তারা। একইভাবে তার এলাকার চাল ব্যবসায়ী ইমদাদুল হক পটল ও রঞ্জু মিয়ার নিকট থেকে বেশ কয়েক লাখ টাকার চাল বাকিতে নিয়ে তা পরিশোধে নানা ফন্দি ফিকির করতে থাকে। পরে খোঁজখবর নিয়ে জানা যায় মোশারফ ও আলমগীর ভয়ঙ্কর প্রতারক। তাদের নেতৃত্বে সংঘবদ্ধ একটি প্রতারক চক্র গোটা দেশে দাপিয়ে বেড়াচ্ছে। বাকিতে চাল কেনার নামে প্রতারণা করাই তাদের পেশা। আর এই প্রতারণা বাণিজ্যের মাধ্যমে দেশের বিভিন্ন জেলা-উপজেলা থেকে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নিয়েছে ওই চক্রটি। এদিকে চলতি মাসের ০২জুলাই শেরপুর উপজেলার চান্দাইকোনা বাজার এলাকায় একইভাবে চাল কিনতে আসেন ওই দুই প্রতারক। বিষয়টি জানতে পেরে আমার ছেলে সেখানে যান। পরে তার সঙ্গে দুবলাগাড়ীস্থ আমার বাসায় আসেন তারা।

এরইমাঝে তাদের পরিবারের পক্ষ থেকে ৯৯৯-এ ফোন দিয়ে পুলিশকে বলা হয় চাঁদার দাবিতে গত দুইদিন ধরে তাদের আটকে রাখা হয়েছে। তবে শেরপুর থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) ওসমান গণি সর্ঙ্গীয় ফোর্স নিয়ে ঘটনাস্থলে আসেন এবং অভিযোগের সম্পুর্ন উল্টো ঘটনা জানার পর তাদের থানায় নিয়ে যান। পরে থানায় বসে উভয়পক্ষের মধ্যে সমঝোতা হয়। সে অনুযায়ী পাওনা টাকার চেক ও ডকুমেন্ট হিসেবে স্ট্যাম্পে লেখাপড়া হয়। এরপর থানা থেকে ছাড়া পান এবং বাড়ি চলে যান। চাল ব্যবসায়ী জনাব রফিকুল ইসলাম অভিযোগ করে বলেন, ওই দুই প্রতারক বাড়ি যাওয়ার পর থেকেই আমার বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা দিয়ে হয়রানি করার হুমকি দিচ্ছেন। পাশাপাশি তাদের কাছে পাওনা টাকা নিয়ে বেশি বাড়াবাড়ি করলে প্রাণনাশ করা হবে বলেও হুমকি-ধামকি দেয়া অব্যাহত রেখেছেন। এমনকি মুক্তাগাছা প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলন করে আমাদের বিরুদ্ধে ছিনতাইয়ের কল্পিত নাটক মঞ্চস্থ করেছেন। যা সম্পুর্ন মিথ্যা, বানোয়াট ও ভিত্তিহীন।

এ অবস্থায় তিনিসহ অপর দুই ব্যবসায়ী নিরাপত্তাহীনতায় চরম আতঙ্কের মধ্যে দিনাতিপাত করছেন। তাই সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে ঘটনার সত্য উম্মোচনসহ সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের নিকট নিরাপত্তা ও ন্যায় বিচার দাবি করেন তিনি। এ প্রসঙ্গে বক্তব্য জানতে অভিযুক্ত মোশারফ হোসেন ও আলমগীর হোসেনের মোবাইলে একাধিকবার ফোন দেয়া হয়। কিন্তু ফোন বন্ধ থাকায় তাদের বক্তব্য জানা সম্ভব হয়নি। তবে শেরপুর থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) ওসমান গনি বলেন, তাদের উভয়ের মধ্যে ব্যবসায়িক লেনদেন ছিল। চাল নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে টাকা পরিশোধ করেননি। তবে থানায় উভয়পক্ষের মধ্যে সমঝোতা হয়েছে। মোশারফ গংরা একমাসের সময় নিয়ে পাওনা টাকার চেক দিয়েছেন। তাই এই মিমাংসিত বিষয় নিয়ে হুমকি-ধামকি দেয়া উচিত নয় বলে মন্তব্য করেন এই পুলিশ কর্মকর্তা।

Facebook Comments

অফিস: হোল্ডিং#৩৫৯,রোড# ৮/২ মধ‍্য সরদারপাড়া, দুপচাঁচিয়া, বগুড়া।




সম্পাদক ও প্রকাশক: মো: মোছাব্বর হাসান মুসা।

নির্বাহী সম্পাদক
ইমরানুল হাসান (বি এ অনার্স) ম‍্যানেজমেন্ট।

 

বার্তা সম্পাদক: মো:জাকারিয়া হাসান।

মহিলা সম্পাদিকা: মোনিকা আক্তার মালা।