dannews24.com | logo

১২ই কার্তিক, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ | ২৮শে অক্টোবর, ২০২০ খ্রিস্টাব্দ

বগুড়ার শেরপুরে ভিজিএফের চাল বিতরণে ব্যাপক অনিয়ম : চাল না পেয়ে বঞ্চিতদের বিক্ষোভ

প্রকাশিত : জুলাই ২৬, ২০২০, ১৭:১৩

বগুড়ার শেরপুরে ভিজিএফের চাল বিতরণে ব্যাপক অনিয়ম : চাল না পেয়ে বঞ্চিতদের বিক্ষোভ

শেরপুর (বগুড়া) প্রতিনিধি: বগুড়ার শেরপুরে হতদরিদ্র ও দুস্থ মানুষের মধ্যে ভিজিএফের চাল বিতরণে ব্যাপক অনিয়ম-দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে। ওজনে কম দেয়া, স্বজনপ্রীতি ও সুবিধাভোগীদের বাদ দিয়ে মাষ্টাররোলে নিজস্ব লোকজনের টিপ ও স্বাক্ষর নিয়ে চাল উত্তোলন দেখিয়ে গরিবের জন্য বরাদ্দ দেয়া ভিজিএফের চাল আত্মসাত করা হয়। এছাড়া অনেকটা প্রকাশ্যেই টাকার বিনিময়েও কার্ড ও চাল বিক্রি করা হয়েছে। গত শনিবার (২৫জুলাই) বেলা দশটা থেকে সন্ধ্যারাত পর্যন্ত উপজেলার শাহবন্দেগী ইউনিয়নে ভিজিএফের চাল বিতরণে এসব অনিয়ম-দুর্নীতির চিত্র দেখা যায়। এদিকে ওই ইউনিয়নের তিন নম্বর ওয়ার্ডের শতাধিক সুবিধাভোগী নারী-পুরুষ তাদের তালিকায় নাম থাকলেও চাল পাননি। পরে সংশ্লিষ্ট ইউপি সদস্য মোখছেদ আলীর নেতৃত্বে বিক্ষোভেও নামেন তারা। এসময় ভিজিএফের চাল নিয়ে নয়ছয় ও আত্মসাতের ঘটনায় জড়িতদের আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান।

উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তার কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, আসন্ন ঈদুল আজহা উপলক্ষ্যে সরকারের পক্ষ থেকে এই উপজেলায় ১৭হাজার ৩১২জনের জন্য ১০কেজি করে ভিজিএফের চাল বরাদ্দ হয়। সে অনুযায়ী শাহবন্দেগী ইউনিয়নে ২হাজার ৪৯৮জন হতদরিদ্র ও দুস্থ মানুষের তালিকা (মাষ্টাররোল) করে ২৪ দশমিক ৯৪০ মেট্রিকটন চাল বরাদ্দ দেয়া হয়। আর এই ভিজিএফের চাল বিতরণের দিনধার্য্য ছিল শনিবার। কিন্তু চাল বিতরণে নানা অনিয়মের আশ্রয় নেয়া হয়।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, একই ব্যক্তি পাঁচ থেকে ছয়টি কার্ড দিয়ে চাল নিচ্ছে। আবার এসব চাল সেখানেই পাইকারদের নিকট প্রকাশ্যেই বিক্রি করছে। দেখে মনে হবে যেন চাল বিক্রির হাট। এছাড়া ওজনে কম দিতে বালতির মাধ্যমে চাল দেয়া হচ্ছে। পাশাপাশি যারা চাল নিচ্ছেন তাদের বেশির ভাগই চেয়ারম্যান-মেম্বারদের পছন্দের ও নিজস্ব লোক। আর তারাই চাল বিতরণের মাষ্টাররোলে একের পর টিপ সহি ও স্বাক্ষর দিচ্ছেন। অথচ তালিকায় তাদের নামই নেই। এভাবে গরিবের জন্য বরাদ্দ চাল উত্তোলন দেখিয়ে আত্মসাত করা হয়। যার সত্যতা স্বীকার করলেন ওই ইউনিয়নের খোদ ইউপি সদস্য মোখছেদ আলী। তিনি অভিযোগ করে বলেন, তালিকায় যাদের নাম রয়েছে তারা কোন চাল পাচ্ছেন না। অপরিচিত লোকজন কার্ড নিয়ে এসে চাল নিয়ে যাচ্ছেন। এসব অনিয়মের প্রতিবাদ করায় তার ওয়ার্ডের তালিকাভুক্ত ১১০জন দরিদ্র মানুষের কাউকেই চাল দেয়া হয়নি। সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত অপেক্ষার পর চাল না পেয়ে বিক্ষোভ দেখিয়েছেন তারা। শাহ আলম, সালমা বেগম, সুফিয়া বেগমসহ একাধিক ভুক্তভোগী আক্ষেপ করে বলেন, মহামারী করোনা দুর্যোগের কারণে তারা এমনিতেই বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছেন। এ অবস্থায় ঈদকে ঘিরে সরকারের পক্ষ থেকে দেয়া দশ কেজি করে চাল পাবো-এজন্য সারাদিন ধরে বসে আছি। কিন্ত কই চাল। যারা পাচ্ছেন তারা একাই একাধিক কার্ড জমা দিয়ে বস্তাভরে চাল নিয়ে যাচ্ছেন বলে অভিযোগ করেন তারা।

এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে অত্র ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আল আমিন মন্ডল নিজেকে নির্দোষ দাবি করে বলেন, আমি কোন অনিয়মের মধ্যে নেই। কার্ড ও চাল বিতরণ করছেন মেম্বার ও সচিবরা। তাই এসব বিষয়ে তারাই ভালো জবাব দিতে পারবেন বলে দাবি করেন তিনি। বিষয়টি সম্পর্কে জানতে চাইলে উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মোছা. শামছুন্নাহার শিউলী বলেন, চাল বিতরণ নিয়ে অভিযোগ শোনার পর ট্যাগ অফিসার সমবায় কর্মকর্তার সঙ্গে যোগাযোগ করেছি। কিন্তু তিনি অসুস্থ। তাই যেতে পারেননি। তবে তার অফিসের অন্যান্য কর্মকর্তা-কর্মচারীদের পাঠানো হয়েছিল। তারা গিয়ে ছোট-খাটো সমস্যা সমাধান করে দিয়ে এসেছে বলে জানান তিনি। উপজেলা নির্বাহী মো. লিয়াকত আলী সেখ এ প্রসঙ্গে জানান, চাল বিতরণে অনিয়ম ও বঞ্চিতদের বিক্ষোভের খবর পেয়েই এসিল্যান্ডকে ঘটনাস্থলে পাঠানো হয়। তাঁকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে নির্দেশ দেয়া হয়েছে। পরে উপজেলা সহকারি কমিশনার (ভূমি) মো. জামশেদ আলাম রানার নিকট বিষয়টি সম্পর্কে জানতে চাইলে বলেন, ওই ইউনিয়নে ভিজিএফের চাল বিতরণে কিছু সমস্যা আছে। গুরুত্বের সঙ্গে তা খতিয়ে দেখা হবে এবং ব্যবস্থা নেয়া হবে বলে দাবি করেন এই কর্মকর্তা।

Facebook Comments

অফিস: হোল্ডিং#৩৫৯,রোড# ৮/২ মধ‍্য সরদারপাড়া, দুপচাঁচিয়া, বগুড়া।




সম্পাদক ও প্রকাশক: মো: মোছাব্বর হাসান মুসা।

নির্বাহী সম্পাদক
ইমরানুল হাসান (বি এ অনার্স) ম‍্যানেজমেন্ট।

 

বার্তা সম্পাদক: মো:জাকারিয়া হাসান।

মহিলা সম্পাদিকা: মোনিকা আক্তার মালা।