dannews24.com | logo

১১ই কার্তিক, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ | ২৭শে অক্টোবর, ২০২০ খ্রিস্টাব্দ

রংপুরে দেড় কোটি টাকা লুটপাটের অভিযোগ চেয়ারম্যান মেম্বারের বিরুদ্ধে

প্রকাশিত : আগস্ট ৩১, ২০২০, ০৬:৪৪

রংপুরে দেড় কোটি টাকা লুটপাটের অভিযোগ চেয়ারম্যান মেম্বারের বিরুদ্ধে

রংপুর বিভাগীয় প্রতিনিধিঃরংপুরের মিঠাপুকুরে সরকারিভাবে গরিবের জন্য বরাদ্দ টাকা মেম্বার-চেয়ারম্যানদের পকেটে। ওই টাকা বয়স্ক, বিধবা ও প্রতিবন্ধীদের জন্য বরাদ্দ করা হয়েছে। তাদের জন্য বরাদ্দের প্রায় দেড় কোটি টাকা লুটপাটের গুরুতর অভিযোগ পাওয়া গেছে। এর সঙ্গে স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা জড়িত বলে ভুক্তভোগীরা অভিযোগ করেছেন।

উপজেলা সমাজসেবা কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, ২০১৯-২০ অর্থবছরে উপজেলায় ১৭ টি ইউনিয়নে বয়স্ক ১ হাজার ৯১৭, বিধবা ১ হাজার ৭০৮ এবং ৩ হাজার ৫০ প্রতিবন্ধী ভাতার আওতায় রয়েছেন। তালিকাভুক্ত বয়স্ক প্রত্যেকে ৬ হাজার, বিধবা ৬ হাজার ও প্রতিবন্ধী ৯ হাজার টাকা করে উত্তোলন করেছেন। অভিযোগ রয়েছে, সংশ্লিষ্ট ইউপি সদস্য ও চেয়ারম্যানরা দুস্থদের তোলা টাকার মধ্যে প্রায় দেড় কোটি টাকা আত্মসাৎ করেছেন। অনুসন্ধানে এমন তথ্য মিলেছে।

বালারহাট ইউনিয়নের কুতুবপুর গ্রামের নজরুল ইসলাম বয়স্ক-ভাতা পান। ক’দিন আগে তিনি বালারহাট ব্যাংক থেকে ৬ হাজার টাকা তোলেন। এরপরই ইউপি সদস্য ৫ হাজার টাকা নিয়ে ১ হাজার টাকা দেন নজরুলকে। একই কায়দায় উপজেলার ১৭ ইউনিয়নের প্রায় সাড়ে ৬ হাজার বয়স্ক, বিধবা ও প্রতিবন্ধীর ভাতার টাকা তুলে লুটপাট করেছেন ইউপি সদস্য ও চেয়ারম্যানরা।

একই গ্রামের প্রতিবন্ধী আবু সাইদ বলেন, ‘আমি ব্যাংক থেকে ৯ হাজার টাকা তুলেছি। মেম্বার ৯ হাজারের মধ্যে আমাকে দিয়েছেন মাত্র ১ হাজার টাকা। বাকি টাকা ভাতা করে দেয়ার নামে কেটে নিয়েছেন।’ প্রতিবন্ধী কারিমন নেছার বাবা কায়দে আজম বলেন, ‘আমি সাড়ে ৪ হাজার টাকা তুলে পেয়েছি মাত্র ১ হাজার টাকা।’ বিধবা জুলেখা বেগম বলেন, ‘ভাতা করার জন্য আগাম ৩ হাজার টাকা দিয়েছি। তারপরও হাজার টাকা তোলা মাত্রই মেম্বার ৫ হাজার টাকা কেটে নিয়েছেন।’

স্থানীয় আবদুল খালেক ও শাহজালাল বলেন, ‘টাকা ছাড়া কোনো ভাতা হয় না। মেম্বার-চেয়ারম্যানরা অগ্রিম ও প্রথম উত্তোলনের সময় মোটা অঙ্কের টাকা কেটে নেয়।’ নাম প্রকাশ না করার শর্তে কয়েক ইউপি সদস্য বলেন, আমরা নির্বাচন করার সময় টাকা খরচ করেছি। সেগুলো তোলার জন্য আমাদের টাকা কেটে নিতে হচ্ছে। এছাড়া এই টাকার অংশ অনেক জায়গায় দিতে হয়।’ বালারহাট ইউপি সদস্য মনজু মিয়া বলেন, ‘অনেকে ভাতা করে দেয়ার সময় টাকা দিতে পারে না। এজন্য প্রথম কিস্তির উত্তোলনের সময় টাকা কেটে নেয়া হয়। সবার কাছ থেকে টাকা নেয়া হয়নি।’ বালারহাট ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান আবদুল কুদ্দুস বলেন, ‘নতুন ভাতাভোগীদের টাকা উত্তোলনের সময় মোটা অঙ্কের টাকা কেটে নেয়ার বিষয়ে কেউ আমাকে অভিযোগ দেয়নি। তারপরও আমি বিষয়টি নিয়ে অনুসন্ধান করব। দোষী ব্যক্তিরা কখনই ছাড় পাবে না।’ উপজেলা সমাজসেবা অফিসার ফিরোজ কবীর বলেন, এ ধরনের অভিযোগ পাইনি। তবে শোনা যাচ্ছে মেম্বার-চেয়ারম্যানরা ভাতাভোগীদের টাকা কেটে নিচ্ছে। তদন্ত করে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’

Facebook Comments

অফিস: হোল্ডিং#৩৫৯,রোড# ৮/২ মধ‍্য সরদারপাড়া, দুপচাঁচিয়া, বগুড়া।




সম্পাদক ও প্রকাশক: মো: মোছাব্বর হাসান মুসা।

নির্বাহী সম্পাদক
ইমরানুল হাসান (বি এ অনার্স) ম‍্যানেজমেন্ট।

 

বার্তা সম্পাদক: মো:জাকারিয়া হাসান।

মহিলা সম্পাদিকা: মোনিকা আক্তার মালা।