dannews24.com | logo

১৫ই কার্তিক, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ | ৩১শে অক্টোবর, ২০২০ খ্রিস্টাব্দ

শেরপুরে চলাচলের অযোগ্য মালিহাটা-উদয়কুঁড়ি সড়ক দশ গ্রামের মানুষের সীমাহীন দুর্ভোগ

প্রকাশিত : সেপ্টেম্বর ০৫, ২০২০, ১৩:৪৯

শেরপুরে চলাচলের অযোগ্য মালিহাটা-উদয়কুঁড়ি সড়ক দশ গ্রামের মানুষের সীমাহীন দুর্ভোগ

Spread the love

শেরপুর (বগুড়া) প্রতিনিধি: কৃষি নির্ভর এসব গ্রামের কৃষকরা তাদের উৎপাদিত কৃষি পণ্য পরিবহণ নিয়ে বিপাকে।  বর্ষা মৌসুমে চলাচলের একেবারেই অনুপযোগী হয়ে পড়ে বগুড়ার শেরপুর উপজেলার মালিহাটা থেকে উদয়কুঁড়ি পর্যন্ত গ্রামীণ এই কাঁচা সড়ক। এছাড়া সামান্য বৃষ্টি হলেই কাদা-পানিতে একাকার হয়ে যায় সড়কটি। এসময় গাড়ি দূরে থাক, হেঁটে পার হওয়াই মুশকিল। তাই ওই সময় সব ধরণের যানবাহন চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। এতে করে অন্তত দশ গ্রামের সাধারণ মানুষকে সীমাহীন দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। তাছাড়া এই এলাকাটির অর্থনীতির মূল চালিকা শক্তি কৃষি। কৃষি নির্ভর এসব গ্রামের কৃষকরা তাদের উৎপাদিত কৃষি পণ্য নিয়ে বিপাকে পড়েছেন। এমনকি ন্যায্য দামও পাচ্ছেন না তারা। কৃষিপণ্য পরিবহন করতেও গুণতে হচ্ছে দ্বিগুণ ভাড়া। সড়কটি পাকা করা হলে দুর্ভোগ লাঘবের পাশাপাশি পরিবহন ক্ষেত্রেও খরচ কমে আসবে। একইসঙ্গে কৃষকরা তাদের কৃষি পণ্যের ন্যায্য দাম পাবেন। তাই জনগুরুত্বপূর্ণ এই কাঁচা সড়কটি দ্রুত পাকাকরণের দাবি জানিয়েছেন এলাকাবাসী।

সরেজমিনে গিয়ে জানা যায়, উপজেলার কুসুম্বী ইউনিয়নের মালিহাটা থেকে উদয়কুঁড়ি পর্যন্ত সড়কটির দৈর্ঘ্য তিন কিলোমিটার। এই সড়কটি দিয়ে প্রতিদিন উঁচুলবাড়িয়া, বাঁশবাড়িয়া, উদয়কুঁড়িসহ আশপাশের অন্তত দশটি গ্রামের শতশত মানুষ চলাচল করে। শুক্রবার ও মঙ্গলবার আলতাদিঘী বোর্ডের হাটের দিন মানুষের চলাচল আরও বেড়ে যায়। এছাড়া এই রাস্তা সংলগ্ন গ্রামের শিক্ষার্থীরা রাস্তাটির কাদামাটি মাড়িয়ে মালিহাটা উচ্চ বিদ্যালয়, তাতড়া উচ্চ বিদ্যালয়, আলতাদিঘী মাদ্রাসা ও শহরের একাধিক বিদ্যালয়ে লেখাপড়া করে। ওই এলাকার বাসিন্দা মোফাজ্জল হোসেন, সেলিম রেজা, রেজাউল করিমসহ একাধিক ভুক্তভোগী বলেন, তাদের যাতায়াতের একমাত্র রাস্তাটি চলাচলের অযোগ্য হয়ে পড়েছে। যানবাহনতো দূরের কথা, পায়ে হেঁটে চলাও এখন দায়। কারণ রাস্তাটির মাটি এঁটেল তাই বর্ষা মৌসুমের শুরু থেকেই কাদা-পানিতে একাকার। এরপর আবার ট্রাক্টর ও পাওয়া টিলার চলাচলের কারণে হাবড়ে (গভীর কাদা) পরিণত হয়েছে। বর্তমানে এই সড়কে স্থানভেদে চার থেকে পাঁচ ফুট পর্যন্ত কাদার গভীরতা আছে। এ অবস্থায় এলাকার কৃষকরা তাদের উৎপাদিত পণ্য সময়মত বাজারে নিতে পারেন না। ফলে কৃষিপণ্যের ন্যায্যমূল্যও পান না তারা। এসব ভুক্তভোগীরা আরও বলেন, ভোগান্তির পাশাপাশি বিপত্তির শিকারও হতে হচ্ছে তাদের। যাতায়াতের সড়কের বেহালদশার কারণে অনেকে এসব গ্রামে ছেলেমেয়ে বিয়ে দিতে চায় না। কোন আত্মীয়স্বজনও এই গ্রামে আসতে চায় না। এমনকি এসব গ্রামের কেউ অসুস্থ হলে বা কারো প্রসববেদনা উঠলে তাদের কাঁধে করে হাসপাতালে নিয়ে যেতে হয়। বেহাল এই কাঁচা সড়কটির কারণে চরম মানবেতর জীবনযাপন করতে হচ্ছে এই অঞ্চলের মানুষদের।

অত্র ইউনিয়নের সংশ্লিষ্ট ওয়ার্ডের সদস্য (মেম্বার) মো. হাবিবর রহমান বলেন, বিকল্প কোন রাস্তা না থাকায় এ অঞ্চলের মানুষের এই রাস্তা হয়েই উপজেলা সদরে যাতায়াত করতে হয়। সামান্য বৃষ্টি হলেই রাস্তাটি কর্দমাক্ত হয়ে ভ্যান-রিকশা, মোটরসাইকেল, বাইসাইকেল, অটোরিকসা, টেম্পো, মিনি ট্রাকসহ সবধরণের যানবাহন চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। এমনকি পায়ে হেঁটে চলাও অসম্ভব হয়ে পড়ে। বছরের প্রায় অর্ধেক সময় এভাবেই চলাচলের অযোগ্য থাকে এই কাঁচা সড়কটি। বিশেষ করে বর্ষাকালে দুর্ভোগের মাত্রা আরও বেড়ে যায়। ফলে তাদের কৃষিপণ্য নিয়ে বিপাকে পড়েন। পরিবহণ ক্ষেত্রেও দ্বিগুণ ভাড়া গুণতে হয়। তাই সমস্যা নিরসন করার লক্ষ্যে সড়কটি পাকাকরণ করা জরুরি। এজন্য উপজেলা প্রকৌশলীর দফতরসহ একাধিক দফতরে ধর্ণা দিয়েছি। কিন্তু কাজের কাজ কিছুই হয়নি। এমনকি সরকারের সংশ্লিষ্ট কর্তা ব্যক্তিদের সেদিকে কোন নজর নেই বলে ক্ষোভ জানিয়ে অভিযোগ করেন তিনি। এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে উপজেলা প্রকৌশলী মো. নূর মোহাম্মদ বলেন, ইতিমধ্যে সড়কটি পাকাকরণ করার জন্য তার ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার দফতরে ফাইল পাঠানো হয়েছে। বিষয়টি নিয়ে একাধিকবার কথাও বলেছেন তিনি। দ্রুততম সময়ের মধ্যেই সড়কটি পাকাকরণের বরাদ্দ আসবে বলে আশাবাত ব্যক্ত করেন এই প্রকৌশলী।

Facebook Comments

অফিস: হোল্ডিং#৩৫৯,রোড# ৮/২ মধ‍্য সরদারপাড়া, দুপচাঁচিয়া, বগুড়া।




সম্পাদক ও প্রকাশক: মো: মোছাব্বর হাসান মুসা।

নির্বাহী সম্পাদক
ইমরানুল হাসান (বি এ অনার্স) ম‍্যানেজমেন্ট।

 

বার্তা সম্পাদক: মো:জাকারিয়া হাসান।

মহিলা সম্পাদিকা: মোনিকা আক্তার মালা।