dannews24.com | logo

১২ই কার্তিক, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ | ২৮শে অক্টোবর, ২০২০ খ্রিস্টাব্দ

“খেয়ালী গল্প” তুহীন আফসারী

প্রকাশিত : সেপ্টেম্বর ০৮, ২০২০, ১৪:৩৪

“খেয়ালী গল্প” তুহীন আফসারী

মুতালেপ চাচার মেয়ে ছমিরন। ছোটবেলা থেকেই গায়ে-গতরে শক্তিশালী। এই নিয়েও চাচা-চাচীর চিন্তার শেষ নেই । ছটফটে মেয়েটা শশুর বাড়ী যেয়ে কি যে একটা হ্যাডাব্যাডা পাকাই এই চিন্তায় তাদের ঘুম হারামের জোগাড়। তাই সেই ছোটবেলা থেকেই ছমিরনের কানের কাছে পুথি পড়ানো পড়াইতে থাকে এই বলে যে, মাগো, বিয়ের পর শশুর বাড়ীই সব। সাত চড়েও কোন কথা বলবা না। সবসময় মাথা নিচু করে থাকবে। স্বামী যদি কিছু বলেও থাকে শুনে যাবা। মনে রাখবা, স্বামীর প‌া”র নিচে মেয়েদের বেহেস্তো। এইসব শুনে শুনে মনে-শরীরে বড় হতে থাকে ছমিরন।
একদিন ছমিরনের বিয়ে হয়ে গেলো। মুতালেপ চাচার বানী বুকের মধ্যে নিয়ে ছমিরন শশুর বাড়ী গেলো। দিন যায় রাত যায় আর ছমিরনের জ্বালা বাড়ে। কথায় কথায় খুটা শুনতে হয়, তোর বাপ মুতালেপ, শুকনো হবে কবে। শুধু কথা শুনালেও হইতো, সবাই গাতা করে মারে। একবেলা শাশুড়ি তো আর এক বেলা শশুর। একবেলা ননদ মারে। স্বামী এসে সব মাইরের কাজা তোলে। আর ছমিরন বেহেস্তের আশায় মার খেয়ে যায়।
একদিন বাড়ী কেউ নেই। ছমিরনের গায়ে জ্বর। এই জ্বর শরীর নিয়ে ছমিরন স্বামীর জন্যে রান্না শেষ করে বিছানায় একটু গা এলিয়ে দেয়। মাত্র চোখটা লেগেচে এমন সময় আচমকা লাঠির বাড়িতে ঘুমটা ভেঙে গেলো। হটাৎ এই এই মাইরের চোটে কেমন যেন ভ্যাবাচ্যাকার মধ্যে পড়ে গেলো ছমিরন। মাথায় হাজার ওয়াটের লাইট জ্বলে উঠলো। শরীরে ভর করে উঠলো শড়া গাছের কেউ। স্বামীর হাত থেকে লাঠিটা কেড়ে নিয়ে শুরু করে উল্টো মাইর। কচার চোটে স্বামী বেচারা ঝেড়ে দৌড়। আর ছমিরন ব্যাগ গুছিয়ে সোজা বাপের বাড়ী।
দরজা খুলেই মুতালেপ চাচা ভিজে উঠে। দরজায় একা ছমিরন দাড়িয়ে।
-হ্যারে মা তুই একলা!! জামোই কনে?
= আমি একলাই আয়চি। ঐ হারামির কতা কবানা, আজ আমি ওরে ফিশে থুয়ে একলা একলা চলে আয়চি।
– নাউজুবিল্লা, করিচিস কি!! তোরে না সারা জিবন পুতি পড়ানো পড়ালাম যে স্বামীর পা’র নিচে বেহেস্তো আর তুই সেই স্বামীর গা তে হাত দিলি?
= আব্বা, আগে আমার কতা শোন। আমি তোমার কতার বাইরি এক পা ও যায়নি। আমি বেহেস্তের দিকি টাছ উ করিনি, যা মারিচি বেহেস্তো বাদ দিয়ে মারিচি। সব হাটুর উপরের দিকি ঝড়িিচি। আমিও তুমাগের মেয়ে!! শিক্ষার বাইরি কি যাতি পারি??
মুতালেপ চাচা আবার ভিজিয়া উঠিলেন। এই জীবনে তার আর শুকনা হওয়া হইলো না………………..
এই লেখা পড়ে কেউ যদি বেহেস্ত বাদ দিয়ে মারে তবে লেখক বা এডমিন তার জন্য দায়ি নহে। দায়ি হবে আপনার খাছালত। সাবধানে থাকবেন, বেহেস্ত বাঁচিয়ে চলবেন।

Facebook Comments

অফিস: হোল্ডিং#৩৫৯,রোড# ৮/২ মধ‍্য সরদারপাড়া, দুপচাঁচিয়া, বগুড়া।




সম্পাদক ও প্রকাশক: মো: মোছাব্বর হাসান মুসা।

নির্বাহী সম্পাদক
ইমরানুল হাসান (বি এ অনার্স) ম‍্যানেজমেন্ট।

 

বার্তা সম্পাদক: মো:জাকারিয়া হাসান।

মহিলা সম্পাদিকা: মোনিকা আক্তার মালা।