dannews24 | logo

৪ঠা কার্তিক, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ | ২০শে অক্টোবর, ২০২০ খ্রিস্টাব্দ

সাপাহার কৃত্রিম উপায়ে পানি প্রবাহ বাধাগ্রস্থ হওয়ায় সাপাহার ঐতিহ্যবাহী জবই বিলের উজানে আমন ফসলী জমি ক্ষতিগ্রস্থ

প্রকাশিত : সেপ্টেম্বর ১৮, ২০২০, ০৩:৩৮

সাপাহার কৃত্রিম উপায়ে পানি প্রবাহ বাধাগ্রস্থ হওয়ায় সাপাহার ঐতিহ্যবাহী জবই বিলের উজানে আমন ফসলী জমি ক্ষতিগ্রস্থ

সাপাহার (নওগাঁ) প্রতিনিধি: নওগাঁর সাপাহার ঐতিহ্যবাহী জবই বিলের ভাটির দিকে কতিপয় স্বার্থন্নেষী ব্যক্তি মৎস্য আহরণের নামে কৃত্রিম বাঁধ তৈরী করে ¯্রােতের গতিবেগক থামিয়ে দেয়ায় উজানের অসংখ্য কৃষকের হাজার হাজার বিঘা জমির আমন ফসল অথৈই পানির নিচে তলিয়ে গিয়ে ফসলের ব্যাপক ক্ষতিসাধন হয়েছে। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে পাতাড়ী ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য মো: ইসমাইল ও তার কিছু লোকজন মিলে বিলের একেবারে নিম্ঞ্চল মাসনাতলা ঘাটে বিলের উপর দিয়ে নির্মিত রাস্তার বেশ কয়েকটি কালভাটের নিচে বাঁশের বেড়া ও পলিথিন দিয়ে স্বাভাবিক পানির স্রোত থামিয়ে শুধু একটি ব্রীজের নিচ দিয়ে বিলের পানি প্রবাহিত করছে।

সেখানেও পানির মধ্যে আবারো বাাঁশের বেড়া দিয়ে বৃহত এলাকা ঘিরে একটি মাত্র সুরু পয়েন্টে তাদের সুতি জাল বাসিয়ে সেখান দিয়ে পানি প্রবাহিত করছে। এতে করে বিলের উপরিভাগের পানি স্বাভাবিক গতিতে নিচে নামতে না পেরে ওই এলাকায় বিশাল পানির চাপ পড়ে পানি নিচের তুলনায় উপরিভাগে অনেকাংশে ফুলিয়ে ফাঁপিয়ে উঠেছে। বিল এলাকা পরিদর্শনে গিয়ে অসংখ্য আমন আবাদের ফসলি জনি পানির নিচে তলিয়ে যাওয়ায় ওই এলাকার সাধারণ কৃষককে হা হুতাশ করতে দেখা গেছে।

এবিষয়ে বিলে কৃত্রিম বাঁধ সৃষ্টিকারী ও মৎস্য আহরণকারী ইউপি সদস্য ইসমাইল এর সাথে কথা হলে তিনি বলেন, বিলের মৎস্য সংরক্ষন করতে প্রতিবছরই এধরনের ব্যাবস্থা গ্রহণ করা হয়ে থাকে। আর এজন্য মৎস্যচাষ প্রকল্পের উন্নয়নে সরকারীভাবে মৎস্য অফিস হতে জবইবিল মৎস্যচাষ প্রকল্পের নামে ২লক্ষ ২৫হাজার টাকা জমা দিয়ে আমরা মৎস্য আহরণ করে থাকি। আমাদের কৃত্রিম বাঁধের কারণে পানি প্রবাহ বাধাগ্রস্থ হয়নি নিচের স্লইচ গেটের কারণেই মুলত স্বাভাবিক পানি প্রবাহ বাধাগ্রস্থ্য হয়েছে।

এর পর উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা রুজিনা আক্তার এর সাথে কথা হলে তিনি বলেন সুতি জালের কারণে বিলের পানি প্রবাহ বাধাগ্রস্থ হচ্ছে না কারণ বিলের আরোও নি¤ঞ্চলে হাপানিয়া এলাকায় পূর্নভবা নদীর সাথে পানি উন্নয়ন বোর্ড কর্তৃক একটি স্লইচ গেট নির্মান করা হয়েছে। বর্তমানে ওই স্লইচ গেটের দরজাগুলি বন্ধ রয়েছে। বৈদ্যুতিক সংযোগ না থাকায় দরজাগুলি খোলা সম্ভব হচ্ছেনা মেনোয়াল পদ্ধতিতে দু’একটি দরজা খোলা হয়েছে সেকারণেই জবই বিলের পানি প্রবাহ বাধাগ্রস্থ হচ্ছে। স্লইচ গেটের সকল দরজা খোলা হলে উপরের পানির চাপ অনেকাংশে কমে যাবে। এছাড়া সুতি জালের বিষয়ে তিনি বলেন যে, বাংলাদেশ মৎস্য মন্ত্রনালয় কর্তৃক জবই বিল মৎস্যচাষ উন্নয়ন প্রকল্পের অধিনে বিলে মৎস্যচাষ প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। বর্ষা মৌসুমে বিলের অধিকাংশ মাছ যেন বিল হতে বের হয়ে না যায় সে জন্য বৃহত স্বার্থে বিলের ওই মুখে প্রতিবছর বর্ষা মৌসুমে মাছ আটকানোর জন্য সাময়িকভাবে এধরণের কৃত্রিম বেড়া দিয়ে মাছ ও পানি প্রবাহ কিছুটা বাধাগ্রস্থ করা হয়ে থাকে। তবে ভবিষ্যতে বিলের নিম্ম স্লইচ গেট সম্পুর্ন খোলা থাকলে এসমস্যার সমাধান হবে।

উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ বিভাগের উপজেলা কর্মকর্তা মজিবুর রহমানের এর সাথে কথা হলে তিনি বলেন যে প্রকৃতিগত ভাবেই এবছরে বৃষ্টিপাতের পরিমান অনেক বেশী। প্রচুর বৃষ্টিপাত, কৃত্রিম বাঁধ ও নিমম্ঞ্চমলের স্লইচ গেট তিনটি কারণেই বিলের উপরিভাগের আমন ফসল তলিয়ে গেছে। স্লইচ গেটের সকল দরজা খুলে দেয়া হলে বিলের পানি প্রবাহের চাপ অনেকাংশে কমে যাবে বলেও তিনি জানান।

উপজেলা নির্বাহী অফিসার কল্যাণ চৌধুরীর সাথে কথা হলে তিনি জানান সুতি জাল বসানোর কারণে পানি প্রবাহ বাধাগ্রস্থ হলে বিষয়টি খতিয়ে দেখে তাদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যাবস্থা নেয়া হবে। অনতি বিলম্বে বিলের নিমম্ঞ্চমলের ওই সুতি জাল তুলে ওনিমম্ঞ্চমলের স্লইচ গেটের দরজা খুলে দিয়ে পানির স্বাভাবিক গতিকে ফিরিয়ে উপরের আমন আবাদকে বাঁচানোর জন্য বিল পাড়ের অসংখ্য কৃষক সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি কামনা করেছেন।




About Us

COLORMAG
We love WordPress and we are here to provide you with professional looking WordPress themes so that you can take your website one step ahead. We focus on simplicity, elegant design and clean code.