dannews24.com | logo

১১ই কার্তিক, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ | ২৭শে অক্টোবর, ২০২০ খ্রিস্টাব্দ

বগুড়ার শেরপুরে সেই সিএইচসিপি কর্মকর্তাকে অবশেষে বরখাস্ত করলো স্বাস্থ্য বিভাগ জেলে থেকেও বেতন নেয়ার অভিযোগ

প্রকাশিত : সেপ্টেম্বর ২৫, ২০২০, ১০:০০

বগুড়ার শেরপুরে সেই সিএইচসিপি কর্মকর্তাকে অবশেষে বরখাস্ত করলো স্বাস্থ্য বিভাগ জেলে থেকেও বেতন নেয়ার অভিযোগ

শেরপুর (বগুড়া) প্রতিনিধি:বগুড়ার শেরপুরে ধর্ষণের শিকার প্রতিবন্ধী শিশুকে চিকিৎসা নিতে বাধা দেওয়াসহ গ্রাম্য শালিসী বৈঠকের মাধ্যমে ধামাচাপা দেয়ার মামলায় অভিযুক্ত সেই সিএইচসিপি কর্মকর্তা (কমিউনিটি হেলথকেয়ার সার্ভিস প্রোভাইডার) মো. মনিরুজ্জামান প্লাবনকে অবশেষে বরখাস্ত করা হয়েছে। স্বাস্থ্য অধিদফতরের কমিউনিটি বেইজড হেলথ কেয়ার সিবিএইচসির প্রধান কার্যালয়ের লাইন ডাইরেক্টরের স্বাক্ষরিত একটি স্মারকপত্রের মাধ্যমে ওই সিএইচসিপি কর্মকর্তাকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়। গতকাল বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) বিকেলে সিবিএইচসির পক্ষ থেকে পাঠানো বরখাস্ত করা সংক্রান্ত আদেশের ওই চিঠি সিএইচসিপি কর্মকর্তা মনিরুজ্জামান প্লাবন হাতে পেয়েছেন বলেও স্বীকার করেন। একইসঙ্গে নিজেকে নির্দোষ দাবি করে তিনি বলেন, সত্য বেশিদিন চাপা থাকে না। তাই অচিরেই ষড়যন্ত্রের জাল উম্মোচিত হবে বলেও দাবি করেন তিনি। জানতে চাইলে উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মো. আব্দুল কাদের এ প্রসঙ্গে বলেন, অনলাইনের মাধ্যমে সিবিএইচসির চিঠি পেয়েছেন। পরে তার দপ্তর থেকে বরখাস্ত হওয়া ওই সিএইচসিপি কর্মকর্তার নিকট পৌঁছে দেয়া হয়েছে বলেও জানান এই স্বাস্থ্য কর্মকর্তা। এদিকে ধর্ষণ মামলার অভিযুক্ত হয়ে ১৭দিন জেলহাজতে থাকলেও কারাবাসের দিনগুলোকে কর্তব্য পালন ধরে নিয়ে কর্মকর্তা মনিরুজ্জামান প্লাবনকে পুরো মাসের বেতন দেয়া হয়। এমনকি তার বিরুদ্ধে কোন প্রকার ব্যবস্থা না নিয়ে সরকারি চাকরিবিধি ভেঙে ওই স্বাস্থ্যকর্মীকে রক্ষায় নানামুখি চেষ্টা চালান উপজেলা স্বাস্থ্যকমপ্লেক্সের প্রধান কর্মকর্তা ডা. আব্দুল কাদের। কিন্তু একাধিক গণমাধ্যমে (প্রিন্ট ও ইলেক্ট্রনিক্স) মিডিয়ায় ঘটনার সচিত্র প্রতিবেদন প্রকাশ ও প্রচারের সেই চেষ্টা ব্যর্থ হয়। একইসঙ্গে স্বাস্থ্য বিভাগে শুরু হয় তোলপাড়। ফলে স্থানীয় স্বাস্থ্য বিভাগের পক্ষ থেকে কোন ব্যবস্থা নেয়া না হলেও স্বাস্থ্য অধিদফতরের প্রধান কার্যালয় থেকে ওই সিএইচসিপি কর্মকর্তাকে বরখাস্ত করা হয়েছে বলে জানা গেছে।

প্রসঙ্গত: গত ০২আগস্ট উপজেলার খানপুর ইউনিয়নের খানপুর দহপাড়া গ্রামের শফিকুল ইসলামের প্রতিবন্ধী শিশু মেয়ে ধর্ষণ শিকার হন। কিন্তু ওই গ্রামের প্রভাবশালী মাতব্বরগণ ধর্ষষের শিকার ওই শিশুকে চিকিৎসা নিতে হাসপাতালে যেতে দেয়নি এবং ভুক্তভোগীর পরিবারকে আপোষ-রফার কথা বলে আইনের আশ্রয় নিতে বাধা দেওয়া হয়। এমনকি ঘটনাটি আপোষ-মিমাংসার নামে গ্রাম্য শালিসী বৈঠক ডেকে ধর্ষিতার নামে সামান্য কিছু জায়গা (১৫শতক) লিখে দেয়ে ধামাচাপা দেয়া হয়। আর এসব কর্মকা-ের নেতৃত্ব দেন একই গ্রামের বাসিন্দা এবং খানপুর কমিউনিটি ক্লিনিকের সিএইচসিপি কর্মকর্তা মো. মনিরুজ্জামান প্লাবন। একপর্যায়ে ঘটনাটি থানা পুলিশ জানতে পারেন। পরে ধর্ষণের শিকার ওই প্রতিবন্ধী শিশুটির পরিবার থানায় মামলা দায়ের করেন। আর সেই মামলায় হত ০৬আগস্ট গ্রেফতার হন সিএইচসিপি মনিরুজ্জামান প্লাবন। এরপর থেকে ১৭দিন জেলহাজতে থাকার পর জামিনে বেরিয়ে আসেন তিনি। এভাবে মাসের অর্ধেকটা সময় জেলহাজতে থাকলেও ওই কর্মকর্তার বিরুদ্ধে স্বাস্থ্য বিভাগের পক্ষ থেকে কোন ব্যবস্থা নেয়া হয়নি। বরং চলতি সেপ্টেম্বর মাসের ০২তারিখেই তাকে জেলা থাকাসহ পুরো আগস্ট মাসের সরকারি বেতন দেয়া হয়।

Facebook Comments

অফিস: হোল্ডিং#৩৫৯,রোড# ৮/২ মধ‍্য সরদারপাড়া, দুপচাঁচিয়া, বগুড়া।




সম্পাদক ও প্রকাশক: মো: মোছাব্বর হাসান মুসা।

নির্বাহী সম্পাদক
ইমরানুল হাসান (বি এ অনার্স) ম‍্যানেজমেন্ট।

 

বার্তা সম্পাদক: মো:জাকারিয়া হাসান।

মহিলা সম্পাদিকা: মোনিকা আক্তার মালা।