dannews24.com | logo

৭ই কার্তিক, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ | ২৩শে অক্টোবর, ২০২০ খ্রিস্টাব্দ

বিক্রি করা সন্তানকে মায়ের কোলো ফিরিয়ে দিলেন গাইবান্ধার ডিসি আব্দুল মতিন

প্রকাশিত : সেপ্টেম্বর ২৭, ২০২০, ০৬:১৩

বিক্রি করা সন্তানকে মায়ের কোলো ফিরিয়ে দিলেন গাইবান্ধার ডিসি আব্দুল মতিন

শাহারুল ইসলাম, গাইবান্ধা প্রতিনিধি:ক্লিনিকের বিল মেটাতে নবজাতককে বিক্রি করে চোঁখের জ্বলে বাড়ী ফিরতে হয়েছিল গাইবান্ধা সদর উপজেলার শোলাগাড়ী গ্রামের অসহায় দম্পত্তি আমেনা বেগম আর শাজাহান মিয়াকে। সেই খবর জানতে পেরে গাইবান্ধার জেলা প্রশাসক (ডিসি) আবদুল মতিন এর উদ্যোগে ফের হারানো সন্তানকে ফিরে পেলেন ওই দম্পত্তি। তিনি শুধু এই নবজাতককে মায়ের কোলে তুলেই দিলেন কি না! ছোট্ট এই শিশুটির ভরণপোষণের যাবতীয় দায়িত্বও কাঁধে তুলে নিয়েছেন। আর এমন মহানুভবতা দেখিয়ে জেলার সর্বসাধারণ তথা জেলাবাসীর প্রশংসার জোয়ারে ভাসছেন ডিসি আবদুল মতিন।
জানা গেছে, ১৩ সেপ্টেম্বর গাইবান্ধার সদর উপজেলার শোলাগাড়ি গ্রামের দিনমজুর শাজাহান মিয়ার স্ত্রী আমেনা বেগমের সন্তান প্রসব বেদনা উঠলে তাকে গাইবান্ধা শহরের যমুনা ক্লিনিকে নেয়া হয়। সেখানে অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে আমেনা বেগম একটি ফুটফুটে কন্যা সন্তানের জন্ম দেন। ১৭ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ওই ক্লিনিকে চিকিৎসা নেওয়ার পর ১৬ হাজার টাকা বিল ধরিয়ে দিয়ে তাকে রিলিজ দেন ক্লিনিক কর্তৃপক্ষ। সেই বিল পরিশোধে ব্যর্থ হয়ে ৫ দিনের এই নবজাতককে সাদুল্লাপুরের এক পরিচিত নিঃসন্তান দম্পতির নিকট বিক্রি করেন এই দম্পতি। কিন্তু সন্তান বিক্রির পর মানসিকভাবে ভেঙ্গে পড়েন আমেনা বেগম।
বিষয়টি দুষ্টিগোচর হলে গাইবান্ধার ডিসি আবদুল মতিন ব্যক্তিগত ভাবে শোলাগাড়ীতে গিয়ে ওই দম্পত্তির সঙ্গে দেখা করে সন্তান গ্রহণকারির পরিচয় নিশ্চিত হন। পরে তার নেতৃত্বে সদর উপজেলা নির্বাহী অফিসার প্রসূন কুমার চক্রবর্তী ও এনডিসি এসএম ফয়েজ উদ্দিনকে সন্তান গ্রহণকারী দম্পতির কাছে ছুটে যান।
এসময় জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে সন্তান গ্রহণকারী ওই ব্যক্তিকে ১৬ হাজার টাকা পরিশোধ করে সন্তানটি হেফাজতে নেয়া হয়। পরে ডিসি শিশুটির মায়ের কোলে তুলে দেন। এ সময় তিনি মা ও নবজাতকের চিকিৎসাসহ অন্যান্য খরচের জন্য আর্থিক সাহায্য করেন। একই সঙ্গে এই নবজাতকের ভরণপোষণের দায়িত্ব নেওয়ার কথাও ঘোষণা করেন মানবিক জেলা প্রশাসক আবদুল মতিন।
আর এমন সংবাদ ইলেকট্রোনিক মিডিয়া, প্রিন্ট পত্রিকা ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ফলাও করে খবরটি প্রকাশ হলে জেলার রিক্সাচালক থেকে শুরু করে শিক্ষক,রাজনৈতিক নেতা, সাংবাদিক, ব্যবসায়ী, ডাক্তার, ছাত্র-ছাত্রীসহ সর্বসাধারণের মুখে ডিসি আব্দুল মতিন এর প্রশংসা যেন থামছেনা। তারা ডিসি আব্দুল মতিন এর জন্য দোয়া ও শুভ কামনা জানিয়ে বলেন, ওনি আমাদের জেলার অভিভাবক! আর একজন অভিভাবক হিসেবে একজন সন্তানকে ফিরিয়ে দিয়ে যে মানবিকতা ও মহানুভবতা দেখিয়েছেন, সেজন্য আমরা জেলাবাসী ডিসির কাছে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি।

Mob: ০১৭১১-৩৬৬২৯৮, ০১৮১২-৫৫০৮৭৭

ই-মেইল mushanews2011@gmail.com




সম্পাদক ও প্রকাশক: মো: মোছাব্বর হাসান মুসা।

নির্বাহী সম্পাদক
ইমরানুল হাসান (বি এ অনার্স) ম‍্যানেজমেন্ট।

বার্তা সম্পাদক: মো:জাকারিয়া হাসান।

মহিলা সম্পাদিকা: মোনিকা আক্তার মালা।

অফিস: হোল্ডিং#৩৫৯,রোড# ৮/২ মধ‍্য সরদারপাড়া, দুপচাঁচিয়া, বগুড়া।