dannews24.com | logo

১১ই কার্তিক, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ | ২৭শে অক্টোবর, ২০২০ খ্রিস্টাব্দ

চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা ডিবির এস.আই জাহিদ দুর্নীতি ঘুষ আটক বাণিজ্যের আরেক নাম

প্রকাশিত : অক্টোবর ১২, ২০২০, ০২:২১

চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা ডিবির এস.আই জাহিদ দুর্নীতি ঘুষ আটক বাণিজ্যের আরেক নাম

রাজশাহী বিভাগীয় প্রতিনিধিঃ চাঁপাইনবাবগঞ্জে ছাত্রনেতা ও বাংলাদেশ আওয়ামী যুবলীগের চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর উপজেলার যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক এবং চাঁপাইনবাবগঞ্জ পৌরসভার ১৫ নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর পদপ্রার্থী রঞ্জু আহম্মেদ কে কোন অভিযোগ ছাড়াই ষড়যন্ত্রমূলক আটক, লাঞ্চিত করা ও প্রাণনাশের হুমকি দেওয়াসহ ডিবির এস আই জাহিদের সেচ্ছাচারিতা ও চাঁদাবাজির বিরুদ্ধে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে ।

উক্ত সমাবেশে চাঁপাইনবাবগঞ্জ পৌরসভার ১৫ নং ওয়ার্ডবাসী অংশগ্রহন করেন ।
১১ অক্টোবর সকাল ১১ টার দিকে জেলা প্রশাসক ভবনে সামনে এই সমাবেশ ও বিক্ষোভ করেন এলাকাবাসী । সে সময় বক্তারা অবিলম্বে চাঁদাবাজ, দুর্নীতিবাজ ডিবি এস আই জাহিদ’কে শাস্তিমূলক প্রত্যাহার কর, করতে হবে, স্লোগান দেন । তার বিরুদ্ধে ডি আই জি রাজশাহী রেঞ্জ বরাবর লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন বলে জানান রঞ্জু আহম্মেদ ।উল্লেখ্য যে, ২০১৩ সালে মাদক সংশ্লিষ্ট বিষয়ে সিলেট জেলার কানাইঘাট এলাকায় এই এসআই জাহিদের বিরুদ্ধে,এলাকার জনসাধারণ মানববন্ধন করেন। এর আগেও এস আই জাহিদের বিরুদ্ধে ধারাবাহিক সংবাদ প্রকাশ হয় বিভিন্ন সংবাদ মাধ্যমে।

২০২০ সালের ১৭ আগস্ট প্রকাশিত সংবাদ সমুহঃ ১ম পর্বঃ করোনাকালে পুলিশ জনগণের আস্থা প্রতীক হিসাবে বিবেচিত হয়েছে । পুলিশ দেখিয়ে দিয়েছে তারা জনগণের পুলিশ হতে পেরেছে । থানা পুলিশ হয়ে উঠেছে মানুষের ভরসার স্থল । কিন্তু সেই ভরসার স্থল ও আস্থার প্রতীককে সমালোচিত বা সম্মান নষ্টের অপচেষ্টায় লিপ্ত হয়েছে কতিপয় পুলিশ সদস্য । যাদের অপকর্মের দায় যদিও সম্পুর্ণ ডিপার্টমেন্ট নেয় না, তবুও কিছুটা হলেও সম্মান হানি তো হয়েই যায় । তবে যথার্থ ব্যবস্থা নিলে অপকর্ম কিছু অংশে নয় সম্পুর্ণরুপে বন্ধ হবে বলে আশা করে বিশিষ্টজনরা ।

সমকালীন সময়ে পুলিশ বিভাগের বহুল আলোচিত চট্রগ্রামের দূর্নীতিবাজ পুলিশ পরিদর্শক প্রদীপের আরো এক উত্তরসূরী, চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা ডিবির এসআই আবু আব্দুল্লাহ জাহিদ। এমন অপরাধ নাই যে, সে করেনা।নিরীহ মানুষকে মাদক দিয়ে ফাঁসিয়ে অর্থ আয়ে,ধৃততার শীর্ষে সে। এ ছাড়া, সে নিজেই চোরাকারবারি ও মাদক ব্যবসায় জড়িত। ৪ বছর ধরে এই জেলা ডিবিতে কর্মরত তিনি।এই ৪ বছরে ২০ টি অভিযোগ তার বিরুদ্ধে।তবুও অজ্ঞাত কারনে বহালতবিয়ে তিনি।

এই ৪ বছরে ভালো কিছু অর্জন থাকলেও সিংহ ভাগ কাজ তার অনৈতিক । ঘুষ, ও গ্রেফতার বানিজ্যে সে জেলা সেরা। প্রত্যাক্ষদোষী ও স্থানীয়দের অভিযোগে উঠে এসেছে মাদক সংশ্লিষ্টতা ঘুষ ও আটক বানিজ্যের নানা কথা । এলাকায় প্রচলন আছে জাহিদ মানেই টাকা, আর টাকা না পেলেই অস্ত্র অথবা মাদক মামলা । বহু ঘটনার জন্ম দেওয়া এই এস আই জাহিদ নিরিহ সাধারন মানুষজনকেও হয়রানি করতে ছাড়েনি। টাকা নিতে মরিয়া এই এস আই অর্থশালী বিত্তবান মানুষকে আটক করে হাতিয়ে নিয়েছে মোটা অংকের ঘুষ । এলাকায় সাধারনের মাঝে আতংক বিরাজ করছে তার আটক বানিজ্যে । তার ভয়ের মুখ খুলতেও নারাজ ভুক্তভুগিরা । তবে দীর্ঘ সময়ের অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে প্রতিবেদকের কাছে এসেছে কিছু গুরুত্বপূর্ণ তথ্য ও প্রমান । যা ধারাবাহিক পর্বের মাধ্যমে প্রকাশিত হবে ।

ধারাবাহিক পর্বের ১ম পর্বঃ
বানিজ্য -১, শিবগঞ্জ থানার মুসলিপুর বাজার হইতে আসামী মোঃ মহব্বত আলী (২৪) পিতামৃত-এনামুল হক সাং-আজমতপুর থানা-শিবগঞ্জ জেলা- চাঁপাইনবাবগঞ্জকে গত ২ জুলাই দুপুর দেড়টায়, ৪ কেজি গাঁজাসহ আটক করলেও তাকে ১ কেজি দিয়ে মামলা দেয়া হয়।

বানিজ্য- ২ শিবগঞ্জ থানার মুসলিমপুর এলাকায় গত ১০ এপ্রিল দিবাগত রাত আনুমানিক ৩ টায়, ১৮৬০ বোতল ফেন্সিডিলসহ জেলার তেলকুপি এলাকার মৃত বুদ্ধুর ছেলে, রবুকে আটক করে। ঐ দিন সকালে ছেড়া স্কুল এলাকার মৃত মঞ্জুরের ছেলে, মহসিন ইসলাম কে তার নিজ বাসা থেকে গ্রেফতার করে এস আই জাহিদ। তাকে ছেড়ে দেয়ার জন্য তার বড় ভাইয়ের কাছে তিন লক্ষ টাকা নিয়েও তাদের মাত্র ৯০০ বোতল ফেন্সিডিল দিয়ে মামলা দেয়। অন্যদিকে ৯৬০ বোতল ফেন্সিডিল বিক্রি করে দেয় দুইজন মাদক ব্যবসায়ীর নিকট

বানিজ্য – ৩ গত ১৭ জুলাই রাত আনুমানিক ৮ টায়, চাঁপাইনবাবগঞ্জের, শিবগঞ্জ থানাধীন মুসলিমপুর মোড়ে মোটরসাইকেলসহ ২ টি বস্তায় ৩৬০ বোতল ফেন্সিডিলসহ মসিউরসহ ২ জনকে আটক করে এস আই জাহিদ। ধৃত আসামিরা আরও দুইজনের নাম বললে, এসআই জাহিদ রাইসু নামের একজন কে আটক করলেও তাকে, ৪০ হাজার টাকার বিনিময়ে ছেড়ে দেন। এ ছাড়াও ফেন্সিডিলের বস্তা নিয়ে মশিউরের সাথে আটক ব্যাক্তির অভিভাবকের সাথে সোর্সের মাধ্যমে ২ লাখ টাকার বিনিময়ে তাকেও ছেড়ে দেন । একক ঘটনায় ১ লাখ টাকার বিনিময়ে মোটরসাইকেলটিও ছেড়ে দেন এসআই জাহিদ। শুধুমাত্র মসিউর কে ২০০ বোতল ফেন্সিডিলসহ চালান দেন। এসপি চাঁপাইনবাবগঞ্জের ফেইসবুক পেইজে দুই বস্তা ফেন্সিডিলের ছবিসহ মশিউরকে আটকের সংবাদ প্রচার করা হলেও তার এজাহারে অজ্ঞাত কারণে এক বস্তার কথা উল্লেখ্য আছে ।
১ম পর্বের পর ২য় পর্বে আটক বানিজ্য – ৪ (১৯ আগস্ট প্রকাশিত সংবাদ)

গত ৩ আগস্ট এস আই জাহিদ চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলার শিবগঞ্জ থানাধীন তেলকুপি এলাকায় রিফুজি পাড়া থেকে মাদক ব্যবসায়ী সন্দেহে রিপন নামের একজনকে আটক করেন। আটক রিপনকে ৬০ হাজার টাকায় ছেড়ে দেন । টাকা লেনদেন করেন জিন্নাত ওরফে জিন্নু মেম্বারের মারফতে । একই দিন আরও এক ব্যাক্তিকে আটক করে্ন তিন শত বোতল ফেন্সিডিলসহ। কিন্তু উক্ত ব্যাক্তি ও আটক ফেন্সিডিল জমা হয়নি জেলা ডিবি অফিসে । ঘটনার পরপর দীর্ঘ সময় নিখোঁজ আছেন সেই আটক ব্যাক্তি । তবে ফেন্সিডিলগুলো বিক্রি করেছে অন্য এক তার সহযোগী মাদক ব্যবসায়ীর নিকট ।
আটক বানিজ্য – ৫

গত ১৪ আগস্ট আড়াই থেকে সাড়ে তিনটা পর্যন্ত তার নিজস্ব টিম নিয়ে অভিযানে যান ইসমাইল হোসেনের বাড়ি । ইসমাইল আজমতপুর মোন্নাটোলা এলাকার আব্দুল খালেকের ছেলে । তাকে তার বাড়ি থেকে তুলে গিয়ে পাশ্ববর্তী সাইদুরের বাড়ি নিয়ে যায় । সাইদুরের বাসায় তল্লাশি চালিয়ে কোন কিছু না পেয়ে এক পর্যায়ে কথা কাটাকাটি সৃষ্ট হয় । এক পর্যায়ে ক্ষিপ্ত হয়ে সাইদুরের স্ত্রীসহ তার যুবতি মেয়েকে মহিলা পুলিশ ছাড়াই তাদের গায়ে হাতদিয়ে টানতে টানতে গাড়িতে তুলে । সাইদুরের বাসা থেকে ফিরে এর ১ ঘন্টার ব্যবধানে ইসমাইল এর বাড়িতে গিয়ে বাড়ীর ভিতর কাউকে না ঢুকতে দিয়ে এসআই জাহিদ অস্ত্র উদ্ধার দেখায়, প্রথমে তাকে বাসায় থেকে ডেকে নিয়ে গেলেও সেখানে তার বাসায় চারজন পুলিশ সাদা পোশাকে রেখে যায় । যে চারজন ইসমাইলের অনুপস্থিতিতে তার ঘরে ঢুকে পরবর্তীতে তারা দরজায় বসে থাকে । এরপর এস আই জাহিদ আসলে তার ঘর থেকে অস্ত্র উদ্ধার দেখায় । তখন এটা সাজানো নাটক বলে ইসমাইল এর মা সহ অনেকেই প্রতিবাদ করায় ইসমাইলের মা সহ ইসমাইলের ৪ বছরের ছোট ভাইকেসহ জোর পুর্বক তুলে নিয়ে যান এসআই জাহিদ।

পরের দিন ইসমাইলকে অস্ত্র সহ চালান দিলেও অজ্ঞাত কারনে ৩ দিন ধরে ইসমাইলের মা ও ইসমাইলের আপন ছোট ভাই ৪ বছরের শিশু বাচ্চাকে গুম করে রেখে ১ লক্ষ টাকার বিনিময়ে ইসমাইলের মা ও ইসমাইলের আপন ছোট ভাইকে মুক্তি দেন।
এদিকে সাইদুর, সাইদুরের স্ত্রী ও যুবতি মেয়েকে মেন্টালী টর্চার করে তাদের কাছ থেকেও ৩দিন আটক রেখে ১ লাখ টাকা নিয়ে তাদের মুক্তি দেন।

ঘটনার সত্যতা যাচাইয়ের জন্য সরেজমিন ঘটনা স্থলে গেলে সাংবাদিকদের নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন এলাকাবাসী জানান – সাইদুর ও ইসমাইলের পরিবারের সাথে যে ঘটনা ঘটেছে তা ওসি প্রদীপ ও ইন্সপেক্টর লিয়াকতের কর্মকান্ডের শামিল।এখন আতংকে ওলাকার কেউই মুখ খুলতে চাইছে না। তার অপকর্মের সঙ্গীদের দিয়ে প্রতিনিয়ত কাউকে না কাউকে তুলে নিয়ে গিয়ে দুইদিন তিনদিন পযর্ন্ত গুম রেখে অর্থ হাতিয়ে নেন এস আই জাহিদ ।
আটক বানিজ্য-৬

চাঁপাইনবাগঞ্জের এক ব্যবসায়ীকে তুলে নিয়ে গিয়ে শিবির ও জামায়াত তকমা দিয়ে ১২ লক্ষ টাকা দিয়ে সেই যাত্রায় মুক্তি পায় সেই ব্যবসায়ী । নাম না প্রকাশে অনেচ্ছুক একাধিক ব্যবসায়ী জানান, প্রতিনিয়ত এস আই জাহিদের আতংকে আছি, টাকার প্রয়োজনে সে যে কোন কিছুই করতে পারে । যাকে তাকে তুলে নিয়ে গিয়ে আটকে রেখে অর্থ দাবি তার নিত্যনৈমিক ব্যাপার ।

স্থানীয়রা অভিযোগ করে বলেন, পুলিশের উদ্ধর্তন কর্মকর্তারা গোপনে সাধারন মানুষদের সাথে কথা বললেই বুঝতে পারবে এস আই জাহিদদের নানা অপকর্মের ভয়াবহ গল্পকথা । তার ভয়াবহতায় কেউ এখন মুখ খুলছে না, যদিও দুই একজন প্রতিবাদকারী প্রতিবাদ করে তাদের অবস্থান হয় জেলা । মিথ্যা মামলায় ফাঁসিয়ে দিতে জুড়ি নেই এস আই জাহিদের । স্থায়ীনরা বলেন ওসি প্রদীপের এই উত্তরসুরির অতিসত্ত্বর তদন্ত পূর্বক ব্যবস্থা না নিলে হয়ত ভবিষ্যতে বড় কোন দুর্ঘটনা ঘটাতে পারেন এই এস আই । উদ্ধর্তন মহলের উচিত হবে এই মুহুত্ব্বে গোপনে তার বিষয়ে তদন্ত করা ।

সর্বপরি বিষয়ে কথা বলতে এস আই জাহিদের সাথে কথা বললে তিনি সকল বিষয় অস্বীকার করেন । তার বিরুদ্ধে হওয়া মানববন্ধন সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হলে তিনি বলেন, একটি অভিযোগের ভিত্তিতে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য রঞ্জুকে আটক করি। পরবর্তীতে বাদী, বিবাদী মীমাংসা করে নিবে এই আশ্বাস দিলে জেলা যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক আমানুল্লাহ বাবুর জিম্মায় রঞ্জুকে ছেড়ে দেয়। আগামীকাল (সোমবার) ১২ অক্টোবর বিকেলে তাদের মীমাংসায় বসার কথা আছে তার আগেই মানববন্ধন করেন তিনি । তার মানববন্ধনটি প্রতিহিংসা ও আক্রোশমুলক বলে উল্লেখ্য করেন তিনি ।

Facebook Comments

অফিস: হোল্ডিং#৩৫৯,রোড# ৮/২ মধ‍্য সরদারপাড়া, দুপচাঁচিয়া, বগুড়া।




সম্পাদক ও প্রকাশক: মো: মোছাব্বর হাসান মুসা।

নির্বাহী সম্পাদক
ইমরানুল হাসান (বি এ অনার্স) ম‍্যানেজমেন্ট।

 

বার্তা সম্পাদক: মো:জাকারিয়া হাসান।

মহিলা সম্পাদিকা: মোনিকা আক্তার মালা।