dannews24.com | logo

৭ই কার্তিক, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ | ২৩শে অক্টোবর, ২০২০ খ্রিস্টাব্দ

পলাশবাড়ীতে ২১৭টি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ডিজিটাল হাজিরা মেশিন স্থাপনে দুর্নীতির অভিযোগ

প্রকাশিত : অক্টোবর ১৩, ২০২০, ০১:০০

পলাশবাড়ীতে ২১৭টি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ডিজিটাল হাজিরা মেশিন স্থাপনে দুর্নীতির অভিযোগ

 

শাহারুল ইসললাম, গাইবান্ধা প্রতিনিধি:

গাইবান্ধা জেলার পলাশবাড়ী উপজেলার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়সমূহে ডিজিটাল হাজিরা মেশিন স্থাপনে ব্যাপক অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ পাওয়া গেছে। প্রতিটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে সর্বসাক্যুল্যে ১০ হাজার টাকা খরচের বিপরীতে ২২ হাজার টাকার রশিদ দেয়া হচ্ছে প্রতিষ্ঠান প্রধানদের হাতে। যেখানে উপজেলার ২১৭টি প্রতিষ্ঠান হতে ২৬ লক্ষ ৪ হাজার টাকা হরিলুট হচ্ছে। প্রশ্ন উঠেছে এই হরিলুটের দায় নেবে কে? অভিযোগের তীর উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসের দিকেই যায়।সরকার সারাদেশের প্রাথমিক বিদ্যালয় গুলোতে শিক্ষক হাজিরা শতভাগ নিশ্চিত করার লক্ষ্যে ডিজিটাল হাজিরা মেশিন স্থাপনের উদ্যোগ নেয়। নানা অনিয়মের কারণে গত বছরের ২৩ ডিসেম্বর ডিজিটাল হাজিরা মেশিন স্থাপন বন্ধ করে দেয়। সেই নির্দেশনা অমান্য করে গাইবান্ধার পলাশবাড়ী উপজেলায় গত অর্থ বছরের স্লিপ ফান্ড থেকে ২১৭টি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ডিজিটাল হাজিরা মেশিন স্থাপন করা হচ্ছে। কিন্তু ডিজিটাল হাজিরা মেশিন স্থাপন নিয়ে তুঘলকি কারবার চলছে পলাশবাড়ী উপজেলায়। এমনকি পূর্বের প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের দেয়া টেকনিক্যাল স্পেসিফিকেশন অমান্য করে নিম্নমানের ডিজিটাল হাজিরা মেশিন স্থাপন করা হচ্ছে। মাত্র ৯ হাজার টাকা মূল্যের নিম্নমানের ডিজিটাল হাজিরা মেশিন ২২ হাজার টাকায় ক্রয় করতে বাধ্য করা হচ্ছে প্রধান শিক্ষকদের। প্রতিটি মেশিনে প্রায় ১২ হাজার টাকা করে বেশি নেয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। ডিজিটাল হাজিরা মেশিন ক্রয় থেকে উপজেলা শিক্ষা অফিসের সিন্ডিকেটের হাতে উঠছে প্রায় ২৬ লাখ টাকা।
এদিকে, গত ২৩ ডিসেম্বর প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর ৩৮.০১.০০০০.৭০০.৯৯.০০৩.১৮-৬৩২/৫৭৪ স্মারক মূলে স্লিপ ফান্ডের টাকা থেকে ডিজিটাল বায়োমেট্রিক হাজিরা মেশিন না কেনার জন্য মাঠ পর্যায়ে নির্দেশনা প্রদান করা হয়। সেই আলোকে সারাদেশে প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ডিজিটাল হাজিরা মেশিন স্থাপন কার্যক্রম বন্ধ রয়েছে। কিন্তু পলাশবাড়ীতে করোনাকালীন সময় বিদ্যালয় বন্ধ থাকার পরও উপজেলা শিক্ষা অফিস অর্থ আত্মসাতের উদেশ্যে অতিরিক্ত মূল্যে ডিজিটাল হাজিরা মেশিন নিতে প্রধান শিক্ষকদের বাধ্য করছে। যা প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের নির্দেশনার পরিপন্থী।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক জানান, গত ২৩ অক্টোবর প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের এক আদেশে বলা হয় কমপক্ষে ১৫টি স্পেসিফিকেশন দেখে এবং বাজারে প্রচলিত বায়োমেট্রিক মেশিন যেটি কার্যক্ষম ও উপযুক্ত তা সাশ্রয়ী মূল্যে কিনতে হবে। নির্দিষ্ট কোনো প্রতিষ্ঠানের সরবরাহ করা মেশিনই যে নিতে হবে এমন কোনো বাধ্যবাধকতা নেই। কিন্তু পলাশবাড়ী শিক্ষা অফিস প্রধান শিক্ষকদের নির্দিষ্ট সরবরাহকারীর কাছ থেকে ডিজিটাল হাজিরা মেশিন কিনতে বাধ্য করছে। উপজেলা শিক্ষা অফিস অ্যাকটিভ পাওয়ার লিমিটেড নামের প্রতিষ্ঠান থেকে মেশিন নিতে বলছে। তাদের সরবারহকৃত মেশিন বাজারের নিম্নমানের মেশিন হলেও দাম নেয়া হচ্ছে প্রায় তিনগুণ।
অ্যাকটিভ পাওয়ার লিমিটেড ও উপজেলা শিক্ষা অফিস একটি সিন্ডিকেট গড়ে তুলেছে। ওই সিন্ডিকেটের সহায়তায় জেডকেটেকো ব্রান্ডের ডিজিটাল হাজিরা মেশিন বিদ্যালয়গুলোতে সরবরাহ করা হচ্ছে। যার বাজার মূল্য সর্বোচ্চ ৯ হাজার ৯শ টাকা। অনলাইনে বিভিন্ন সাইট থেকেও ঐ নির্দিষ্ট মডেলের মেশিন ১০ হাজার টাকার বেশি হওয়ার কথা নয়। কিন্তু বিদ্যালয়গুলোকে মেশিন প্রতি দিতে হচ্ছে ২২ হাজার টাকা।নাম প্রকাশ না করার শর্তে উপজেলার একজন প্রধান শিক্ষক জানান, ২১ সেপ্টেম্বর দুপুরে এই নিম্নমানের ডিজিটাল হাজিরা মেশিন স্থাপনের উদ্বোধন করা হয়েছে। ক্লাস্টার ভিত্তিক এই হাজিরা মেশিন নিতে হচ্ছে। কিন্তু প্রধান শিক্ষকরা এই নিম্নমানের ডিজিটাল হাজিরা মেশিন নিতে ইচ্ছুক নয়। এরপরও উপজেলা শিক্ষা অফিস শুধু নিজেদের কমিশন নিশ্চিত করার স্বার্থে তাদের এই মেশিন নিতে বাধ্য করছে।

সরবারহকারী প্রতিষ্ঠান নির্দিষ্ট করে দেওয়ার কথা অস্বীকার করে উপজেলা শিক্ষা অফিসার (ভারপ্রাপ্ত) আব্দুস ছালাম জানান, তিনি কোন প্রতিষ্ঠান নির্দিষ্ট করে দেননি। তারা শুধু শিক্ষকদের ডিজিটাল হাজিরা মেশিন স্থাপন করার কথা বলেছেন। শিক্ষা অফিসের নির্দেশেই অ্যাকটিভ পাওয়ার লিমিটেড থেকে ডিজিটাল হাজিরা মেশিন ক্রয় করছে শিক্ষকরা। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের নিষেধাজ্ঞা থাকা স্বত্বেও কেন হাজিরা মেশিন নেয়া হচ্ছে এক প্রশ্নের জবাবে তিনি জানান, গত ২১ জানুয়ারির চিঠির আলোকেই হাজিরা মেশিন স্থাপন করার নির্দেশ দেয়া হয়েছে।

উপজেলা শিক্ষা অফিসার (ভারপ্রাপ্ত) আব্দুস ছালামের দেয়া তথ্য মতে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরে ওয়েব সাইটে গিয়ে দেখা যায়, গত ২১ জানুয়ারির চিঠিতে পূর্বে ক্রয়কৃত হাজিরা মেশিন যথাযথ ব্যবহার হচ্ছে কিনা তা জানতে চাওয়া হলেও নতুন করে ক্রয় করার আদেশ দেয়া হয়নি।

এদিকে তথ্যানুসন্ধানে দেখা যায়, অ্যাকটিভ পাওয়ার লিমিটেড নামের প্রতিষ্ঠান হতে ডিজিটাল মেশিন সরবরাহ করছে শিক্ষা অফিস। ক্ষমতা প্রয়োগের মাধ্যমে উপজেলা শিক্ষা অফিস নিম্নমানের ডিজিটাল হাজিরা মেশিন অতিরিক্ত মূল্যে সরবরাহ করছে।

Mob: ০১৭১১-৩৬৬২৯৮, ০১৮১২-৫৫০৮৭৭

ই-মেইল mushanews2011@gmail.com




সম্পাদক ও প্রকাশক: মো: মোছাব্বর হাসান মুসা।

নির্বাহী সম্পাদক
ইমরানুল হাসান (বি এ অনার্স) ম‍্যানেজমেন্ট।

বার্তা সম্পাদক: মো:জাকারিয়া হাসান।

মহিলা সম্পাদিকা: মোনিকা আক্তার মালা।

অফিস: হোল্ডিং#৩৫৯,রোড# ৮/২ মধ‍্য সরদারপাড়া, দুপচাঁচিয়া, বগুড়া।